ট্রাম্পের নির্বাসন তালিকায় এবার ভেনেজুয়েলা-কিউবার নাগরিক
- নিজ দেশে নয়, এবার লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে আমেরিকা অভিবাসী ভেনেজুয়েলা-কিউবার নাগরিকদের

ট্রাম্পের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো নির্বাসিতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নাগরিকরা রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে নতুন মোড়। নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হওয়া অভিবাসীদের এবার তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর উদ্যোগ জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নাগরিকদেরও লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় আগামী এক বছরে সর্বোচ্চ ১,২০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম দফায় ২০ জনকে পাঠানোর কথা রয়েছে।
লাইবেরিয়ার কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মানুষকে সাধারণ বন্দি হিসেবে রাখা হবে না। তাদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। চাইলে তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দেশটিও ছাড়তে পারবেন।
যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয়, বিশেষ করে নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কায় যারা যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেই তৃতীয় দেশে পাঠানোর এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও শরণার্থী সংস্থাগুলোও সহায়তা করবে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় লাইবেরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে।
তবে চুক্তিটি ঘিরে মানবাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্নও উঠছে। সমালোচকদের উদ্বেগ, যে ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয় বলে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দিয়েছে, তাদের অন্য একটি দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অধিকার কতটা নিশ্চিত করা হবে?
ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নাগরিকদের এই তালিকায় থাকা বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই দুই দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, মানবিক সুরক্ষা ও নির্বাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লাইবেরিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে নির্বাসন’ নীতি আরও বড় পরিসরে এগিয়ে যাবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা—নিজ দেশে ফেরত নয়, শেষ পর্যন্ত তাদের গন্তব্য হতে পারে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ।






