৬ কোটির বেশি শিশুর নামে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যোগ্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রের ৬ কোটির বেশি যোগ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর নামে এখন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’। বুধবার ৭ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি যোগ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
ওয়াশিংটন সময় দুপুর ১টায় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের ঘোষণার সময় তিনি বলেছেন, “আমেরিকার প্রতিটি যোগ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু এখন ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।” তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কয়েক কোটি শিশুর নামে তৈরি হওয়া এই বিনিয়োগ হিসাবকে নতুন করে সামনে আনা হলো।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, শিশুর ছোট বয়স থেকেই তার নামে অর্থ জমা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা, যাতে সময়ের সঙ্গে সেই অর্থ বাড়তে পারে।
আগের ব্যবস্থায় সন্তানের নামে এমন অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য অভিভাবকদের নিজেদের উদ্যোগে আবেদন করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রাথমিক ধাপটি অনেকাংশে বদলে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য শিশুদের নামে আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রাখা হচ্ছে। ফলে কোনো পরিবার আগে আবেদন না করলেও তার সন্তানের নামে হিসাব তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়াকে সরাসরি শিশুর হাতে টাকা চলে আসা হিসেবে দেখা যাবে না। অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করতে অভিভাবককে প্রথমে সেটি দাবি করতে হবে। পরিচয় ও অভিভাবকত্বের প্রয়োজনীয় যাচাই শেষ করে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার পরই সেখানে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এই হিসাবের মাধ্যমে শিশুর নামে জমা হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ব্যবস্থায় রাখা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় শিশুর বয়স কম থাকাটাকেই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ধরা যাক, কোনো শিশুর বয়স এক বছর। তার নামে তৈরি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করে দীর্ঘ সময় বিনিয়োগে রাখা হলে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সেই অর্থ বাজারভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়ার সুযোগ পাবে। তবে বিনিয়োগের সঙ্গে বাজারঝুঁকিও থাকবে। কত অর্থ জমা হবে এবং শেষ পর্যন্ত তার মূল্য কত দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ ও বিনিয়োগের ফলাফলের ওপর।
শুধু বাবা-মাই এই অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারবেন এমন নয়। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এতে অর্থ জমা দিতে পারবেন। দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা অন্যান্য আত্মীয় নির্ধারিত নিয়ম ও সীমার মধ্যে শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ যোগ করতে পারবেন।
নিয়োগকর্তাদের জন্যও রাখা হয়েছে অর্থ দেওয়ার সুযোগ। অর্থাৎ কোনো কর্মচারীর সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে প্রতিষ্ঠানও নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারবে। এর ফলে শিশুর ভবিষ্যতের জন্য পরিবারের বাইরে থেকেও অর্থ যোগ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কর্মসূচির আরেকটি আলোচিত দিক হলো সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলারের অবদানের ব্যবস্থা। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। তবে এখানেও অভিভাবকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দাবি ও সক্রিয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনায় ১৮ বছর বয়সের আগে এই অর্থ ব্যবহারে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকবে। অর্থাৎ এটি সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের মতো যখন খুশি টাকা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর জন্য অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগে রাখা।
১৮ বছর বয়সের পর অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ তৈরি হবে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এটি অবসরকালীন বিনিয়োগ হিসাবের কাঠামোয়ও যেতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিকে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার নিজেরা সন্তানের নামে বিনিয়োগ শুরু করার উদ্যোগ নেয়নি, তাদের সন্তানদেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টের আওতায় আনার ফলে কর্মসূচিটির পরিধি বড় হয়েছে।
তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর বাস্তবে অর্থ জমা হওয়া এক বিষয় নয়। ৬ কোটির বেশি শিশুর নামে হিসাব তৈরি হলেও প্রতিটি পরিবারকে সেটি সক্রিয় করতে হবে। এরপর পরিবার বা অনুমোদিত অন্য উৎস থেকে সেখানে অর্থ জমা পড়তে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, বিনিয়োগে মুনাফা নিশ্চিত নয়। অ্যাকাউন্টে অর্থ বিনিয়োগের পর বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়বে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কোনো শিশুর অ্যাকাউন্টের মূল্য কত হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
তবু যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি পরিবারের জন্য এটি একটি বড় পরিসরের নতুন আর্থিক কর্মসূচি। শিশুর নামে আগে থেকেই একটি বিনিয়োগ হিসাব তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার পরিবারগুলোকে পরবর্তী ধাপে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।
এখন মূল প্রশ্ন, কত পরিবার তাদের সন্তানের অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করবে এবং সেখানে নিয়মিত অর্থ জমা দেবে। কারণ অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে থাকলেও তার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করবে এরপরের পদক্ষেপের ওপর।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, প্রতিটি যোগ্য শিশুর জন্য বিনিয়োগের দরজা খুলে দেওয়াই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। আর সেই দরজা দিয়ে কত পরিবার এগিয়ে যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



