ইরান যুদ্ধের পক্ষে মাত্র ২৫% আমেরিকান, নির্বাচন নিয়ে চাপে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে সার্থক মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে সার্থক মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। অর্থাৎ প্রতি চারজন আমেরিকানের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে এনেছে যুদ্ধটি। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জনমতের এই অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির জন্য তৈরি করেছে নতুন রাজনৈতিক চাপ।
রয়টার্স/ইপসোসের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপটি এমন সময়ে এসেছে, যখন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা। এর আগে ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানর দাবি করেছে ইরান।
যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের এই নেতিবাচক অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগের রয়টার্স/ইপসোস জরিপেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন কমতে দেখা গেছে। আগস্টের জরিপে মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সমর্থন করেছিলেন। একই সময়ে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজের অনুমোদন ছিল ৩৩ শতাংশ, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সঙ্গে মিলে যায়।
সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে তাদের সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ যদি ভোটারদের কাছে অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি ব্যয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে, তাহলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের সহযোগীরা চাইছেন না ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান প্রচারণা ইস্যুতে পরিণত হোক।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতও রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও কঠিন করে তুলছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন, খাদ্য ও দৈনন্দিন পণ্যের দামে পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ইরানের ওপরও ফেলছে বড় প্রভাব। অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সংকুচিত হয়েছে। এতে ইরানের অর্থনীতি চাপে পড়লেও তেহরান এখনো আত্মসমর্পণের বদলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
ফলে ট্রাম্প এখন কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে। একদিকে তার প্রশাসন দাবি করছে, ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে কার্যকর হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের মাত্র এক-চতুর্থাংশ মানুষ যুদ্ধটিকে সার্থক মনে করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্যও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে ইরান ইস্যু ট্রাম্পের জন্য পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের বদলে রাজনৈতিক দায়ে পরিণত হতে পারে। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, জ্বালানির দাম ও ট্রাম্পের জনসমর্থন রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।






