ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লুজার’ বললেন বাইডেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন- গেটি ইমেজ
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লুজার’ বলে কটাক্ষ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একই সঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে আত্মমুগ্ধতা, অহংকার এবং নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন।
গত শনিবার মেরিল্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি ক্যাসিনোতে আয়োজিত গালা অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন বাইডেন।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। অনুষ্ঠানে ন্যাটো জোটকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত ও ধ্বংস করার জন্য ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন বাইডেন।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ট্রাম্প নিজের বলরুম তৈরির জন্য হোয়াইট হাউজের পূর্ব অংশ ভেঙে ফেলেছিলেন। কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম বসিয়েছিলেন। নিজের সম্মানে একটি তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল মেরামতের জন্য নিজস্ব পুলের লোক নিয়োগ করেছিলেন। বাইডেন ব্যঙ্গ করে বললেন, ‘বাহ, কী এক লুজার!’
বাইডেন মূলত ট্রাম্পের নেওয়া লিংকন মেমোরিয়াল পুলের ১৪ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করছিলেন, যা মেরামতের পরপরই শেওলা জমে নষ্ট হয়ে যায়। কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়া প্রকল্পের কাজটি তাড়াহুড়ো করে একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি আগে ট্রাম্পের গলফ ক্লাবের পুলে কাজ করেছিল।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে ইতিহাসের যেকোনো প্রশাসনের চেয়ে বড় মাপের দুর্নীতিবাজ বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে ট্রাম্প শত শত কোটি ডলার কামিয়েছেন।
এর পাশাপাশি, ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাইডেন। তার মতে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে এই মানুষদের লম্বা সময়ের জন্য জেলে পাঠানো উচিত।
প্রেসিডেন্টকে লুজার বলে কটাক্ষ করলেও, ২০২৪ সালের জুনের সেই নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাইডেনের পারফরম্যান্স নিয়েই বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক হাসাহাসি হয়েছিল। সে সময় বাইডেনের বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মধ্যে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। আর বিতর্কের দিন তাকে বেশ বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। তিনি কয়েকবার নিজের বক্তব্যের খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন।
সেই বিতর্কের মাত্র কয়েক দিন পরই ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্যরা প্রকাশ্যেই তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বাইডেন পরের মাসে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। পরে নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন কমলা।




