বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলল যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের কড়া জবাব
- মার্কিন টেক-জায়ান্টদের স্থায়ী শ্রমিক সনদ কর্মসূচির আবেদন স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের ‘চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থায় ভারতীয় পেশাজীবীদের অবদানকে উপেক্ষা করে। একই সঙ্গে ভারত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিবাসীদের শ্রম, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সমৃদ্ধি গড়ে তুলেছে।
এর আগে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফট, অ্যাডোবিসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রমিক সনদ (পিইআরএম) কর্মসূচির আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, মার্কিন কর্মীদের বাদ দিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের। তালিকায় ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো ও এইচসিএল টেকনোলজিসের পাশাপাশি রয়েছে কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি।
এদিন ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মাইক্রোসফটকে লক্ষ্য করে ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনো কোম্পানি মাইক্রোসফটের মতো এ ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি। তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, সর্বশেষ অর্থবছরে জমা দেওয়া প্রায় ৬ হাজার এইচ-১বি ভিসার আবেদনের ৮০ শতাংশই ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা তাদের ভিসা-সংক্রান্ত অবস্থার পরিবর্তনের জন্য। কোম্পানিটি আরও জানায়, নতুন কর্মীদের জন্য করা বাকি আবেদনগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকেই বৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য। তাদের সংখ্যা মাইক্রোসফটের যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মীর মাত্র ১ শতাংশের সমান।
ভ্যান্স আরও অভিযোগ করেছেন, মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করছে কোম্পানিগুলো। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় বিদেশি চুক্তিবদ্ধ ‘দাস’-দের নিয়োগ দিতে পারেন না আপনারা।’
ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা এ প্রসঙ্গে (এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যও দেখেছি। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের বর্ণনা অনভিপ্রেত। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পেশাজীবীরা উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ এবং দেশটির অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন— এ বাস্তবতা এসব মন্তব্যে উপেক্ষিত হয়েছে।’
মন্ত্রণালয়ের মতে, বেদনাদায়ক ঐতিহাসিক ও ঔপনিবেশিক অতীতের স্মৃতি বহন করে— এমন পরিভাষার ব্যবহার অত্যন্ত অপমানজনক।
এদিকে, এইচ-১বি ভিসার নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যে অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সুযোগ সীমিত করলে দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।



