ভাঁজ করা আইফোন আসছে বাজারে, আর কী আছে এতে

ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপলের ইভেন্টে আইফোন ডুয়ো ডিভাইসগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছবি : রয়টার্স
প্রায় ২০ বছরের ইতিহাসে আইফোনে এবারই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। প্রথমবারের মতো ভাঁজ করা যায়, এমন আইফোন বাজারে আনছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল বুধবার আইফোন ডুও উন্মোচনের মাধ্যমে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিটি।
টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া টার্নাস এদিন কোম্পানির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন মডেলটি সামনে আনেন।
নতুন এই ফোনে রয়েছে বাইরের একটি পর্দা। ফোনটি খুললে ভেতরে পাওয়া যাবে আরও বড় ডিসপ্লে। পেছন, সামনে ও ভেতরে রয়েছে ক্যামেরা। ফোনটির বাজারে আসবে আগামী ২৩ অক্টোবর।
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন আইফোন ডুও মোট চারটি স্টোরেজ ভেরিয়েন্টে বাজারে আসছে। ভেরিয়েন্ট অনুযায়ী দামগুলো হলো বেস ভেরিয়েন্ট ২৫৬ জিবি স্টোরেজের দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার, ৫১২ জিবি ভেরিয়েন্টের দাম ২ হাজার ১৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট ভেরিয়েন্টের দাম ২ হাজার ৫৯৯ ডলার এবং সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট ভেরিয়েন্টের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইফোন ডুও ভাঁজ করা ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নতুন করে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
টার্নাস ফোল্ডেবল আইফোন তৈরিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন। কারণ এই বছরের শুরুতে কুকের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার বিভাগে বহু বছর শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন।
আইফোন ডুও দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের আকারের। ফোনটি পুরোপুরি খোলা অবস্থায় এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন বলে দাবি করেছে অ্যাপল।
ফোনটির বাইরের পর্দা ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। ভেতরের ডিসপ্লে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি। ভেতরের পর্দাটি আকারে অনেকটা আইপ্যাড মিনির মতো। ডিসপ্লেতে ম্যাট ধরনের আবরণ রয়েছে। এতে আলো প্রতিফলন কমে। সহজে আঙুলের ছাপও পড়ে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পর্দার ভাঁজের দাগ খুব একটা চোখে পড়ে না। আঙুল চালালেও তা অনুভব করা যায় না।
প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা এফডিএম সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড বলেছেন, অ্যাপলের কোনো কিছুই আকস্মিকভাবে ঘটে না।
আইফোন ডুওর সফটওয়্যারেও বিশেষ পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। ফোনটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে পর্দায় থাকা অ্যাপের অবস্থান বদলে যাবে।
ফোনটি আংশিক ভাঁজ করলে অ্যাপের কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্দার দুই পাশে চলে যাবে।
আইফোন ডুওতে স্ট্যান্ডবাই নামে একটি সুবিধা রয়েছে। ফোনটি লক করে তাঁবুর মতো ভাঁজ করে রাখলে বাইরের পর্দা ঘড়ি বা ছবির ফ্রেমের মতো ব্যবহার করা যাবে।
অবশ্য সাধারণ আইফোনেও এই সুবিধা রয়েছে। তবে সেগুলো পাশে রেখে ব্যবহার করতে হয় এবং চার্জারে সংযুক্ত রাখতে হয়।
বহুদিন ধরে অ্যাপল নিয়ে সমালোচনা ছিল, ২০০৭ সালে প্রথম আইফোনটি বাজারে আসার পর থেকে অ্যাপল এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের উদ্ভাবন আনতে পারেনি। আইফোনের নকশা পরিবর্তন করার ফলে ওই সমালোচনার কিছুটা সমাধান হতে পারে।
ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জি বলেছেন, ফোল্ডেবল ফোনটি পোর্টফোলিওতে একটি চড়া দামের অলঙ্কারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যা শুধু ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও অর্থপূর্ণ প্রবৃদ্ধি আনতে নাও পারে।
সূত্র : সিএনএন






