এআই নিয়ন্ত্রণে কড়া বিধিনিষেধের দাবি উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প
- চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিযুদ্ধে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা
- এআই নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি একদিন মানুষই চলে যাবে এর নিয়ন্ত্রণে? এই প্রশ্নে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন উল্টো পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বার্তা স্পষ্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি থামানো যাবে না, নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণও চাপানো উচিত নয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো যথেষ্ট আইনি সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইতোমধ্যেই রয়েছে। অতিরিক্ত সরকারি বিধিনিষেধ প্রযুক্তির বিকাশ ধীর করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ওঠা নতুন দাবিকে ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নেবে চীন। ফলে প্রযুক্তির দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাই তার কাছে অগ্রাধিকার।
এআই কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ প্রযুক্তিটির দ্রুত পরিবর্তন। নতুন প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা মানুষের নির্দেশ অনুসরণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারছে। ভবিষ্যতে এসব ব্যবস্থা কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সেগুলোর ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রযুক্তি খাতের অনেকেই আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা পরীক্ষা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে।
চীনকে হারানোর দৌড়
ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতির কেন্দ্রে রয়েছে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা। তার মতে, গবেষণা, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত এগোতে হবে। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ধীর হয়ে গেলে চীন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।
তবে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার এই দৌড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রযুক্তিটির বিস্তারের সঙ্গে তথ্যকেন্দ্রের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। বিপুল বিদ্যুতের প্রয়োজন হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ, অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে ট্রাম্পের অবস্থান পরিষ্কার। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গতি কমানো যাবে না। প্রযুক্তির বিকাশ অব্যাহত রেখেই চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে থাকতে হবে।




