যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে শিশুর আর্তনাদ
আমার কেউ নেই, কিচ্ছু নেই!

ফাইল ছবি
টেক্সাসের হার্লিনজন অভিবাসন আদালত। একা দাঁড়িয়ে ১৩ বছরের অ্যাঞ্জেল । নেই কোনো আইনজীবী। বিচারক জানতে চাইলেন কেনো তাকে বহিষ্কার করা হবে না আমেরিকা থেকে? সে জানাল এখানে তার মা ও পরিবার থাকে। শিশুটি জানে না এই কারণ যথেষ্ট নয় আমেরিকায় থাকার জন্য ! বিচারক তাকে বহিষ্কারাদেশ দিলে সে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, ”হন্ডুরাসে আমার কেউ নেই। আমার কিচ্ছু নেই।” পরে বিচারক তাকে বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য সময় দেন।
অ্যাঞ্জেল একা নয়। সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার টেক্সাসের ওই অভিবাসন আদালতে হাজির করা হয় অ্যাঞ্জেলের মতো আরও অনেক শিশুকেই। ওই দিন আদালতে ছিল ২৫ জন অভিবাসী শিশু। সকলেই সুন্দর পোষাক পরে, পরিপাটি করে চুল আঁচড়ে দাঁড়াচ্ছে বিচারকের সামনে। কী ঘটছে তা বোঝার ক্ষমতা নেই তাদের ; অনেকটা যেন নতুন কোনো স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার মত!
সেদিনের এমনই আরেক অভিবাসী শিশু তিন বছরের মাতেও। বিচারকাজ চলার সময় সে মাইক্রোফোন নিয়ে খেলতে শুরু করে। এতে আদালতে উপস্থিত অনেকেই হেসে উঠেন। মাতেওর ভাগ্য ভালো তার সাথে আইনজীবী ছিল। পরে তার আইনজীবী তাকে মাইক্রোফোন থেকে দূরে সরিয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির জেরে দেশজুড়ে দুই বছর বয়সী বাচ্চারাও উপস্থিত হচ্ছে আদালতে। অনেকেরই সাথে নেই আইনজীবী। তারা নিজেরাই যে যতটুকু পারে তা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করে।
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হেফাজতে থাকা অভিবাসী শিশুর সংখ্যার গড় ছিল ১ হাজার ৮৮৩। এদের মধ্যে অনেকেই আটক হয়েছে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অভিভাবক ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করার সময়, আবার কারও পরিবারের সদস্য বা অভিভাবককে আইস (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আটক করার পর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে মিশুকে। এসব শিশুকে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন আশ্রয়কেন্দ্রে।
অভিবাসী শিশুদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রতিষ্ঠান প্রোবার জানিয়েছে আইনজীবীহীন অনেক শিশুই বিচারকের সামনে চুপ করে থাকে, কোনো কথা বলতে পারে না। অনেকটা বিনা শুনানিতেই তাদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আদেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের চুক্তি নবায়ন না করার কারণে এমন অসংখ্য শিশু বিচারহীনতার শিকার হয়ে চলেছে।



