যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার 'ইটের বদলে পাটকেল' বানিজ্য যুদ্ধ শুরু
- ‘বোম্বার্ডিয়ার’ এর পণ্য মার্কিন বাজারে নিষিদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার 'ইটের বদলে পাটকেল' বানিজ্য যুদ্ধ শুরু আজ থেকে। কানাডার পন্যের ওপর ট্রাম্পের ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপের পর কানাডা পাল্টা ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করতে যাচ্ছে বুধবার।
এর মধ্যেই সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্ট্রিয়ল—ভিত্তিক মহাকাশ ও পরিবহন সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বোম্বার্ডিয়ার’ এর পণ্য মার্কিন বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, যদি ‘বোম্বার্ডিয়ার’ যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন না করে, তবে তাদের পণ্য মার্কিন বাজারে বিক্রি নিষিদ্ধ করা হবে। নিজ দেশের রাজনীতিতে এক অস্থির সময় পার করছেন ট্রাম্প। ইরানযুদ্ধে ট্রাম্প জনসর্মথন হারিয়ে ফেলেছেন। দেশটির ২৫ ভাগ মানুষও এ যুদ্ধ সর্মথন করছেন না। গ্যাসের দাম আকাশচুম্বি। আমেরিকানরা তাদের ওয়ালেটের আঘাত টের পাচ্ছেন। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ৩ নভেম্বও অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে। হারাতে যাচ্ছেন কংগ্রেসে রিপাবলিক্যানদের নিয়ন্ত্রন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং দেশ দুটি এখন "যুদ্ধে" লিপ্ত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লড়াই করার মতো যথেষ্ট বড় অর্থনৈতিক শক্তি কানাডা নয়। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় না যে এমন কারো সাথে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা বা 'ইটের বদলে পাটকেল' নীতিতে জড়ানো সম্ভব..."
ট্রাম্পের হুমকি ও ‘লেক ওন্টারিও’র নাম ‘লেক আমেরিকা ’ঘোষণার পর অপমানিত ও ক্ষুব্ধ জাতির দৃঢ় সমর্থন নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক তিক্ত বাণিজ্য যুদ্ধে এগিয়ে চলেছেন। ফলে বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ২ মিত্রতার সম্পর্কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত মাসে ওয়াশিংটনের সাথে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করা এবং কানাডায় প্রবেশকারী প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কানাডিয়ানরা জোরালোভাবে সমর্থন করছে। তবে এরপর কী ঘটতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কানাডা যদি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে আবারও মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
কানাডার শিল্প খাতের কেউ কেউ বলছেন, অন্তত এই হুমকির ক্ষেত্রে তাঁরা ট্রাম্পের কথাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। কানাডার ‘অটোমোটিভ পার্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’—এর প্রেসিডেন্ট ফ্লাভিও ভলপে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের লোকজন তাদের লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজেদের এবং নিজেদের খাত ও শিল্পগুলোর ক্ষতি করতেও প্রস্তুত—যদিও আমার মতে সেই লক্ষ্যটি ভুল পথে পরিচালিত। তিনি আরও বলেন, “তাই তারা হয়তো পরিস্থিতি আরও জটিল বা তীব্র করে তুলতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “তারা আমেরিকান ক্রেতা, আমেরিকান কোম্পানি, আমেরিকান বিমানবন্দর এবং আমেরিকান পরিষেবার ওপর নির্ভর করে টিকে আছে।অথচ একই সময়ে কানাডা পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আমাদের ‘দুর্দান্ত’ আমেরিকান ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম আটকে রেখেছে।”
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, গত মাসে তারা যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তা ছিল মূলত গত বছর কানাডার নেওয়া পাল্টা শুল্ক পদক্ষেপের (বিশেষ করে মার্কিন গাড়ি আমদানির ওপর) জবাব। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প বিশ্ববাণিজ্যের কাঠামো ওলটপালট করা শুরু করার পর থেকে কেবল চীন ও কানাডাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা বা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে কঠোর ভাষায় দেওয়া এক বক্তৃতার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মি. কার্নি ঘোষণা করেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং দেশ দুটি এখন "যুদ্ধে" লিপ্ত।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে লড়াই করার মতো যথেষ্ট বড় অর্থনৈতিক শক্তি কানাডা নয়। তিনি বলেন, "আমার মনে হয় না যে এমন কারো সাথে পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা বা 'ইটের বদলে পাটকেল' নীতিতে জড়ানো সম্ভব..." (তথ্যসূত্র-নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স)





