ভেনেজুয়েলার সেই বিলিয়নিয়ারই এখন পেন্টাগনের তেলসঙ্গী!

আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট
একদিকে মার্কিন অর্থ পাচার তদন্তে নাম, অন্যদিকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল অংশীদার। ভেনেজুয়েলার বিলিয়নিয়ার আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট এখন পেন্টাগনের তেলচুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-সংক্রান্ত অর্থ পাচারের অভিযোগে একসময় মার্কিন, স্প্যানিশ ও সুইস কর্তৃপক্ষের তদন্তের মুখে থাকা বেটানকোর্ট এখন ওয়াশিংটনের নতুন ভেনেজুয়েলা তেল ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উঠেছেন। রয়টার্স, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বেটানকোর্ট নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের (এনএবিইপি) সহপ্রতিষ্ঠাতা। নতুন ব্যবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক ক্যাপিটাল কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোম্পানিটির উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ কেনার অধিকার পাবে এবং বাকি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বেটানকোর্টের অতীতের কারণে। মার্কিন তদন্তকারীরা তাকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে মায়ামি, মাল্টা ও সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে অর্থ পাচারের কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে তদন্ত করেছিলেন। তবে তিনি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত বা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি।
মার্কিন তদন্তের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডেও বেটানকোর্টকে ঘিরে অর্থ পাচারের তদন্ত চলছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তার বিরুদ্ধে চলা তদন্ত স্থগিত হয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে তদন্তটি স্থগিত করা হয়েছিল এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে বেটানকোর্টের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মার্কিন অভিযানের আগে বেটানকোর্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর করতেও তিনি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
বেটানকোর্টের ব্যবসায়িক অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। তার প্রতিষ্ঠান ডারউইক অ্যাসোসিয়েটস একসময় ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি পেয়েছিল। এসব চুক্তির কিছু প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বেটানকোর্ট ও তার প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে ব্যবসায়ী একসময় মার্কিন অর্থ পাচার তদন্তের আওতায় ছিলেন, তিনিই কীভাবে ওয়াশিংটনের নতুন ভেনেজুয়েলা তেল ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠলেন?
বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর যখন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে সরাসরি ৩৫ শতাংশ অংশীদারত্ব নেওয়ার পথে, তখন বেটানকোর্টের অতীতের তদন্ত, বর্তমান ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তার সহযোগিতার সম্পর্ক নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই যে, বেটানকোর্ট কোনো অপরাধে দোষী। একইভাবে মার্কিন তদন্ত স্থগিতের সঙ্গে তার নতুন তেল চুক্তির সরাসরি সম্পর্কও নিশ্চিত হয়নি। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটিই প্রশ্ন— অতীতের তদন্তের ছায়া পেরিয়ে কীভাবে তিনি ওয়াশিংটনের কৌশলগত তেল অংশীদারে পরিণত হলেন?





