এবার আইসের জালে স্বয়ং ১৩১ মার্কিন নাগরিক!

ফাইল ছবি
অভিবাসীদের ধরতে অভিযান। অথচ সেই অভিযানের জালে ধরা পড়েছেন ১৩১ জন মার্কিন নাগরিক! মিনেসোটায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য।
৮ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া এসব মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা অথবা তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর মামলার গতিপথে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনটুরেলার তথ্য অনুযায়ী, ১৩১ জন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে মাত্র ৪৪ জনের মামলা ফেডারেল প্রসিকিউশনের জন্য গ্রহণ করা হয়। আর ২০ মে পর্যন্ত সক্রিয় ছিল মাত্র ১৪টি মামলা। অন্য মামলাগুলোর কিছু খারিজ হয়েছে, কিছু বিচার-পূর্ব বিকল্প নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কৌঁসুলিরা মামলা গ্রহণ করেননি।
একই সময়ে অভিযানে ৪ হাজার ৬৭৪ জন অ-মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৪ জনের আগের অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। অর্থাৎ গ্রেপ্তার হওয়া অ-মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক ইতিহাস ছিল না।
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে ১৩১ মার্কিন নাগরিক কেন গ্রেপ্তার হলেন? আর তাদের বিরুদ্ধে করা মামলার এত বড় অংশ শেষ পর্যন্ত কেন টিকল না?
সমালোচকদের দাবি, এই তথ্য অভিবাসন অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি এবং গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। বিশেষ করে ১৩১ জনের মধ্যে মাত্র ৪৪ জনের মামলা প্রসিকিউশনে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪টি মামলা সক্রিয় থাকা বিষয়টিকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা ঠেকাতেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
তবে পরিসংখ্যানেই উঠছে বড় প্রশ্ন। বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তার হলেও অধিকাংশ মামলা শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। এতে অভিবাসন অভিযান, গ্রেপ্তারের ভিত্তি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এক অভিযানের দুই চিত্র
১৩১ মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার, ৪৪টি মামলা। প্রসিকিউশনে মাত্র ১৪টি মামলা সক্রিয়। একই অভিযানে ৪ হাজার ৬৭৪ অ-মার্কিন নাগরিক গ্রেপ্তার, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৮৬৪ জনের ছিল পূর্ব অপরাধমূলক ইতিহাস।
উৎস: অ্যাক্সিওস, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, মার্কিন কংগ্রেসের প্রকাশিত তথ্য।






