নিউইয়র্কে আইস পুলিশের ‘অপারেশন রটেন আ্যপল’
- এক মাসে ২,১৯৭ ইমিগ্র্যান্ট গ্রেফতার

নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসের তৎপরতা বেড়েছে। এর মধ্যে কুইন্স ও ব্রুকলিনের বিভিন্ন এলাকাও রয়েছে।
নিউইয়র্কে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও তীব্র হচ্ছে। গত এক মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আপনি অপরাধী হোন বা না হোন—যদি আপনি এই দেশে প্রবেশ করার সময় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকেন এবং বৈধ পথে না এসে থাকেন , তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।" এ ক্ষেত্রে আমরা বসে থাকতে পারি না।
আইসের নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেন জেনালো জানিয়েছেন, ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি, লং আইল্যান্ড এবং হাডসন ভ্যালি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইসের দাবি, গ্রেফতার হওয়া ২ হাজার ১০০ জনই অপরাধী।
জেনালো বলেন, অভিযান ছিল “নির্ভুল ও কার্যকর” এবং বিষয়টি তার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া সবাই যে “সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী”—তা তিনি দাবি করেননি। তার ভাষ্য, এসব ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই দাবিকে ঘিরে প্রশ্নও উঠেছে। অতীতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন আদালত আইসের গ্রেফতার করা এমন অনেক ব্যক্তিকে মুক্তির সুযোগ দিয়েছেন, যাদের কারও সুরক্ষিত অভিবাসন মর্যাদা ছিল অথবা যারা আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
এছাড়া আইসের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইস হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশের অপরাধের জন্য দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
নিউইয়র্কে আইসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা সীমিত করার নতুন আইন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুলিন। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর বর্ডার জার টম হোম্যান নিউইয়র্ক সিটিতে আইসের অভিযান আরও বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
এরপর থেকেই কমিউনিটি সংগঠনগুলো দাবি করে আসছে, নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় আইসের তৎপরতা বেড়েছে। এর মধ্যে কুইন্স ও ব্রুকলিনের বিভিন্ন এলাকাও রয়েছে।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস,জামাইকা, ব্রংকসের পার্কচেষ্টার ও ব্রুকলিনের মতো এলাকাগুলোতে আইস পুলিশের উপস্থিতিও এখন লক্ষ্যনীয়। এ সব এলাকা থেকে গত ১৫ দিনে শতাধিক অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে স্প্যানিশ, ভারতীয় ও বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টরা রয়েছেন। ছুটির দিনে এক সময় জ্যাকসন হাইটস এলাকা লোকে লোকারণ্য থাকতো। মানুষের ভীরে ফুটপাতে হাঁটা যেত না। এখন এলাকার রেষ্টুরেন্টগুলোর অধিকাংশ চেয়ারই শূন্য থাকে। সন্ধ্যার পর নীরবতা নেমে আসে।
নিউইয়র্ক গর্ভনরের বক্তব্য
মঙ্গলবার সকালে মুলিনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল।
তিনি আইসের ২ হাজার ১৯৭ গ্রেফতারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, এই সংখ্যার সবাই নিউইয়র্ক স্টেটের আইনে অপরাধ করেছে—এমনটা বলা যায় না।ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সীমান্ত পার হওয়াকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি নিউইয়র্কবাসীকে সতর্ক করে বলেন, নিউইয়র্কে অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট নিয়ে ফেডারেল সরকারের কঠোর অবস্থান এবং স্টেট সরকারের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।





