হারিকেনের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ জনের মৃত্যু
- ফ্লোরিডা থেকে আলাবামায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
- বন্যা ও টর্নেডোর শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হারিকেন ইসাইয়াসের তাণ্ডবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের আঘাতে ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একপর্যায়ে প্রায় ৯ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। ঝড় দুর্বল হয়ে এলেও ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আটটা ৩০ মিনিটে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০৫ মাইল বেগের বাতাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে ঝড়টি। তখন এটি দ্বিতীয় শ্রেণির হারিকেন ছিল। স্থলভাগে প্রবেশের পর ঝড়ের শক্তি কমে আসে। তবে এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে গাছ উপড়ে বাড়ির ওপর পড়ার কারণে। জেনারেটর থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় বাড়িঘর, হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেনসাকোলা বিমানবন্দরেও ঝড়ের প্রভাব পড়ে। নিরাপত্তা যাচাই ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।
আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে গাছ ও বিদ্যুতের তার সড়কে উপড়ে পড়ায় যান চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ কয়েকটি সড়ক বন্ধ রাখে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা সড়ক পরিষ্কার এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন।
ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানান, বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজের জন্য প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও জরুরি সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র সতর্ক করেছে, ভারী বৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। বাসিন্দাদের বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলতে এবং উপড়ে পড়া বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে, মেক্সিকো উপসাগরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি স্থাপনার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয় এবং কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ঝড়ের পর বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।



