‘সভ্যতার শত্রু’ আখ্যা দিয়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান রুবিওর

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও- রয়টার্স
বিশ্বকে ‘ক্রমবর্ধমান বামপন্থী সন্ত্রাসবাদের’ হুমকি মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ট্রাম্প প্রশাসন ওয়াশিংটনে ৬০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে তাদের দাবি, বামপন্থী রাজনৈতিক সহিংসতা ‘সভ্যতার প্রতি গভীর বিদ্বেষ থেকে উৎসারিত এক বিশেষ ধরনের অশুভ প্রবণতা’।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বৈঠকে কট্টর ডানপন্থী হুমকি মোকাবিলার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, রুবিওর বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ওপর জোর দেওয়া ‘রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’।
এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশাসন বিশেষ করে শিথিলভাবে সংগঠিত উগ্র বামপন্থী আন্দোলন অ্যান্টিফার বিরুদ্ধে অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের বৈঠকে রুবিও বলেছেন, সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া উগ্র বামপন্থী চরমপন্থা মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ এবং ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কর্মকর্তাদের।
ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অ্যান্টিফাকে, যার পূর্ণরূপ অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট, একটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বৈঠকে হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেছেন, বামপন্থীরা ‘মূলত ঈর্ষা, ঘৃণা ও হিংসা দ্বারা পরিচালিত’।
বৃহস্পতিবারই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা ‘উগ্র বামপন্থী সন্ত্রাসী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গোষ্ঠী’র সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এর মধ্যে এমন গোষ্ঠীগুলোও রয়েছে, ‘অর্থনৈতিক নাশকতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে।
ওয়াশিংটন এরই মধ্যে ইউরোপের চারটি সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এগুলো হলো জার্মানিভিত্তিক অ্যান্টিফা অস্ট, ইতালির ইনফরমাল অ্যানার্কিস্ট ফেডারেশন/ ইন্টারন্যাশনাল রেভল্যুশনারি ফ্রন্ট, গ্রিসের আর্মড প্রোলেতারিয়ান জাস্টিস এবং রেভল্যুশনারি ক্লাস সেলফ-ডিফেন্স।
বুধবার ১১ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা রুবিওকে চিঠি দিয়ে জানতে চান, বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ওপর তার এই গুরুত্বারোপ বৈধ বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে কি না।
রয়টার্সের হাতে পাওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা জোরালোভাবে অনুরোধ করছি, পররাষ্ট্র দপ্তর যেন এমন দায়িত্ব পালনে ফিরে যায়, যা সংজ্ঞাগতভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, তথ্যভিত্তিক এবং বাস্তবতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, ‘প্রশাসনের ভেতরের উগ্রপন্থীদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারকে কার্যত অনুমোদন দিচ্ছে পররাষ্ট্র দপ্তর।’
যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র বামপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী চরমপন্থা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্নধর্মী চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো উগ্র ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থী সন্ত্রাসবাদের ঘটনা বেশি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের ঘটনাই তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে, গত বছর মার্কিন বিচার বিভাগ নীরবে তাদের ওয়েবসাইট থেকে ২০২৪ সালের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা সরিয়ে নেয়। ওই গবেষণায় বলা হয়েছিল, আদর্শগতভাবে প্রণোদিত মৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটনার জন্য কট্টর ডানপন্থী উগ্রবাদীরাই দায়ী।




