সাবেক বিচারক নোবেল পাওয়ার পরই আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের

সংগৃহীত ছবি
নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান এ নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হবে না।
২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করার লক্ষ্যে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরেই আদালতটির প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে আদালতটির প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তবে শুক্রবারের পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত। এর ফলে আদালতকে সেবা দেওয়া কোম্পানিগুলোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবেন না।’
পিল্লাইকে ‘আমেরিকা বিদ্বেষী’ বলে পুরস্কার নিয়ে কটাক্ষ ট্রাম্পের, রসিকতা নোবেলজয়ীর
০৯ অক্টোবর ২০২৬
তিনি আরও বললেন, ‘এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। আমরা এই নিয়ন্ত্রণহীন আদালতের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদের জোগান বন্ধ করব এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু করে দেব।’
আইসিসির উপপ্রধান প্রসিকিউটর খান রয়টার্সকে বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলোর ‘নিন্দা জানাতেই হবে’।
তিনি বললেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান যে কাজ করছে, তা দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আমাদের সব পরিস্থিতি, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে কাজ অব্যাহত থাকবে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় আইসিসির নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের অতীতের একটি তদন্ত নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আইসিসি বলেছে, ওই তদন্তকে এখন ‘অগ্রাধিকার কম দেওয়া হয়েছে’।
আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১২৫। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটো জোটের সব সদস্য রয়েছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রসহ সদস্য দেশগুলো আদালতটির প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছে। আদালতটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে, যা ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য।
শুক্রবার এর আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার বিবৃতিতে বলেছে, পিল্লাইকে নির্বাচনের মাধ্যমে তারা এমন এক সময়ে ‘স্মরণ করিয়ে দিতে’ চেয়েছে, যখন ‘আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হচ্ছে’।
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘যে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা বিচার পান, তা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।’
রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ মোকাবিলার সুযোগ রেখেই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে আদালত ও এর সদস্য দেশগুলো বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় চারটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে। এর আওতায় আইসিসির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার ও পেনশন-সংক্রান্ত কিছু লেনদেন এবং আদালতের হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন চালানো যাবে।




