হরমুজে ড্রোন ঠেকাতে এবার লেজার অস্ত্র আমেরিকার
- ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে আলোর রশ্মি, কয়েক সেকেন্ডেই লক্ষ্যবস্তুকে অকার্যকর করার প্রযুক্তি
- ‘প্রতি হামলায় খরচ অনেক কম’, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের নতুন বাজি ওয়াশিংটনের

লেজার অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভিডিও গেমে পরিচিত এক্সবক্স কন্ট্রোলারের পরিবর্তিত সংস্করণ।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের হিসাব বদলাচ্ছে এক অদৃশ্য আলোর রেখা। যে ড্রোন নামাতে এত দিন লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হতো, সেটিকেই এখন কয়েক সেকেন্ড ধরে উত্তপ্ত করে আকাশ থেকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে মার্কিন বাহিনী। আরও বিস্ময়কর, সেই অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ভিডিও গেমে পরিচিত এক্সবক্স কন্ট্রোলারের পরিবর্তিত সংস্করণ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে উচ্চক্ষমতার লেজার অস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশিত শক্তির অস্ত্র দিয়ে “ড্রোন ও আসতে থাকা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র” প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক প্রতিরক্ষার তুলনায় অনেক কম খরচে ধ্বংস করা সম্ভব।
প্রযুক্তিটি জেনারেটর বা ব্যাটারির শক্তিকে আলোক কণায় রূপান্তর করে। সেই শক্তি সরু রশ্মিতে কেন্দ্রীভূত হয়ে লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট অংশে কয়েক সেকেন্ড ধরে তাপ সৃষ্টি করে। রশ্মি খালি চোখে দেখা যায় না, ইনফ্রারেড যন্ত্রে ধরা পড়ে। ডিরেক্টেড এনার্জি কনসালট্যান্টসের প্রেসিডেন্ট মার্ক নাইস নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন, ড্রোনের সেন্সর অকার্যকর করা বা সেটিকে ধ্বংস করার মতো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে রশ্মি বসানো যায়।
সবচেয়ে আলোচিত দিক অবশ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। সেনারা পরিবর্তিত এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করে লক্ষ্য অনুসরণ ও লেজার পরিচালনা করছেন। ৭ সেপ্টেম্বর সিবিএস নিউজ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে এমন একটি ব্যবস্থার পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করে। সেখানে ১০ দিনে ১১টি সন্দেহজনক ড্রোন নামানোর পর ওই এলাকায় ড্রোন তৎপরতা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। তবে অন্য কারণও এই পতনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাঁরা স্বীকার করেছেন।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ‘যুদ্ধ-প্রস্তুত’ লেজার কর্মসূচির কথা জানিয়েছে। সরকারি হিসাবে, গত ২ সেপ্টেম্বর মার্কিন সেনাবাহিনী এরোভায়রনমেন্টকে উচ্চশক্তির লেজার উৎপাদনের প্রথম চুক্তি দেয়। মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছে, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কম খরচে ড্রোন প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে বারবার আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি করা।
তবে লেজার কোনও সর্বক্ষমতার প্রতিরক্ষা নয়। বৃষ্টি, কুয়াশা বা বাতাসে জলীয়বাষ্প রশ্মির কার্যকারিতা কমাতে পারে। একসঙ্গে বহু ড্রোনের ঝাঁক এলে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবু হরমুজে এর ব্যবহার দেখাচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধের অস্ত্রভান্ডারে এখন ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে জায়গা করে নিচ্ছে বিদ্যুৎ, অদৃশ্য আলো এবং হাতে ধরা একটি গেম কন্ট্রোলার।



