যুদ্ধের ঢোল ট্রাম্পের, বলির পাঁঠা প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয়ে চাপে হেগসেথ
- অভিশংসনের উদ্যোগের হুঁশিয়ারি

ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধের সিদ্ধান্ত যত সব ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু নির্বাচনে হারের পর দায়ের বোঝা এসে পড়ছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘাড়ে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঢোল পেটানো হয়েছিল হোয়াইট হাউজ থেকে। অথচ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের পর এখন প্রশ্ন উঠছে পেন্টাগনের ভূমিকা নিয়ে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তাই রসিকতা করে প্রশ্ন করা হচ্ছে, যুদ্ধের সিদ্ধান্ত একজনের, আর মাশুল দেবেন আরেকজন?
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর এই বিতর্ক নতুন গতি পেয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের দায় নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি আলোচনা। ট্রাম্পঘনিষ্ঠ কয়েকজন রিপাবলিকান মনে করছেন, ইরান অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। তাদের অভিযোগ, সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিলেও যুদ্ধের পরিণতি সামাল দেওয়ার পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল।
অভিশংসনের হুঁশিয়ারি
হেগসেথকে ঘিরে চাপ বাড়িয়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। তিনি তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। আগামী কংগ্রেস অধিবেশনে এ বিষয়ে ভোটের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ এখনো হেগসেথের পাশে রয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার কাজের প্রশংসা করেছেন। তবে প্রশাসনের ভেতরে তাকে দায়িত্বে রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত, হেগসেথের দায়?
এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন। ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়েও তার প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাহলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দায় কেন শুধু প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
অবস্থান রক্ষায় ভিডিও বার্তা হেগসেথের
সমালোচনার মুখে ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ ভিডিও প্রকাশ করেছেন হেগসেথ। পেন্টাগনের বাইরে ধারণ করা ওই ভিডিওতে তিনি ইরান যুদ্ধের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। রাজনৈতিক চাপের মধ্যে নিজের কাজের রেকর্ড ও অবস্থান রক্ষার চেষ্টা হিসেবেই ভিডিওটিকে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে হেগসেথের বিরুদ্ধে শুধু রিপাবলিকানদের মধ্যেই অসন্তোষ নেই। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবি উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন দলীয় বিরোধের গণ্ডি ছাড়িয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভোটারদের মনোভাবেও। তবে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে অর্থনীতি ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ ইস্যুর ভূমিকাও রয়েছে।



