তুরস্কের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়- রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে আঙ্কারায় পৌঁছালে তাকে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে স্বাগত জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তুরস্কের ওপর আরোপিত কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্টের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
দুই নেতা প্রথমে আঙ্কারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে সাক্ষাৎ করেন। পরে তারা বিমানবন্দরের অতিথিশালা হয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে যান।
প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সেলজুক থেকে উসমানীয় সাম্রাজ্য পর্যন্ত তুর্কি ইতিহাসের বিভিন্ন যুগের পোশাক পরিহিত বাহিনী অংশ নেয়।
দুই দফা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এটি ট্রাম্পের প্রথম তুরস্ক সফর। গত বছর এরদোয়ান হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত ফোনে কথাও বলেছেন দুই নেতা।
ট্রাম্পের সঙ্গে তুরস্কের আগের পরিচয়ও রয়েছে। ইস্তাম্বুলে তার ব্র্যান্ডের নামে নির্মিত টাওয়ারগুলোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সামনে দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
এরদোয়ান বললেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু আজ আঙ্কারায় থাকায় আমরা আরও শক্তিশালী অনুভব করছি।’
জবাবে ট্রাম্প বললেন, ‘আমরা খুব ভালো বন্ধু। আপনি একজন সম্মানিত নেতা।’
তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।
ন্যাটো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলছিলেন, ‘আমি ন্যাটোর ওপর খুবই হতাশ। তারা আমাদের প্রয়োজনে পাশে থাকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। তারা যদি আমাদের পাশে না-ই থাকে, তাহলে আমরা শত শত বিলিয়ন ডলার কেন ব্যয় করব?’
তুরস্কের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এরদোয়ান বলেছেন, তিনি ‘কথার মানুষ’ হিসেবে ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখেন।
ট্রাম্প বললেন, ‘তুরস্ক আমাদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
এ সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, কয়েক বছর আগে তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।




