হুতির হামলা ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েল

হুতির হামলা ঠেকাতে সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে ইসরায়েল। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় দেশটিকে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা হয়েছে বলে এক কূটনীতিকের বরাতে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের মূল লক্ষ্য ছিল হুতিদের সামরিক অবস্থান সম্পর্কে আরও বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা শনাক্ত করা। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় গোয়েন্দা সহায়তার বিষয়েই আলোচনাটি মূলত কেন্দ্রীভূত ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা বেড়েছে। গত সপ্তাহে একটি তেল পরিবহন পাইপলাইন ও তেল উত্তোলনকেন্দ্রে চালানো ড্রোন হামলায় গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপলাইনের কার্যক্রম আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ইয়েমেন-সৌদি আরব সীমান্তের কাছাকাছি একটি মসজিদ ও আশপাশের ভবনে থাকা সৌদি বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা চালানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে লোহিত সাগরের কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি সৌদি জাহাজকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হুতিদের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো একে সৌদি আরবের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্রগুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ও হুতিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলো অমীমাংসিত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং দেশটির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া এবং দেশটির তেল অবকাঠামোতে হামলা ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের কাছেও সহায়তা চেয়েছে বলে ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সামরিক পরামর্শক পাঠাতে সম্মত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার বিষয়ে তিনি এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
এদিকে সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়েও ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হলে তিনি সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতিকে যুক্ত করেন। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান হলে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের কয়েকটি অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার একটি পথ তৈরি হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।




