ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় পুরোনো বই, প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশ স্টল

সংগৃহীত ছবি
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ। তাদের অভিযোগ, এবারের বাংলাদেশ স্টলে গত বছরের বইয়ের বাইরে নতুন বইয়ের সংযোজন খুব একটা চোখে পড়ছে না। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমকালীন বাস্তবতা আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ থাকলেও স্টলে বইয়ের সীমিত উপস্থিতিতে হতাশ হয়েছেন দর্শনার্থীদের অনেকে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা ৭ অক্টোবর শুরু হয়েছে, চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, লেখক ও বইশিল্পের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মেলা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাদের অভিযোগ।
মেলা দেখতে যাওয়া ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রবাসী বাংলাদেশি সোহেল রানা আগামীর সময়কে বলেন, গত বছরের অনেক বই এবারও বাংলাদেশের স্টলে দেখা যাচ্ছে। নতুন বইয়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম বলে তার মনে হয়েছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সমকালীন বাস্তবতা তুলে ধরে, এমন বইয়ের সংখ্যাও খুব কম।
তিনি জানান, গত বছরের প্রদর্শনীতে বাংলা সাহিত্য ও সমকালীন বিষয়ভিত্তিক বইয়ের পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বইও ছিল। তবে এবারের মেলায় প্রদর্শিত বইয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং গত বছরের তুলনায় নতুন বইয়ের সংখ্যা জানা যায়নি।
বাংলাদেশ স্টল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, অংশগ্রহণের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এবার আয়োজন সীমিত হয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য, মেলা শুরুর মাত্র দুই দিন আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকে অংশগ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়। ফলে নতুন বই সংগ্রহ এবং প্রদর্শনীর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবের সময়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মেলায় অংশগ্রহণের আবেদন, অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রত্যাশিত তৎপরতা ছিল না বলে সূত্রটির দাবি। এবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি মেলায় অংশ নিতে আসেননি বলেও জানায় সূত্রটি। ২০২৪ সাল থেকে এ বইমেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
জার্মানিপ্রবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠক সাবিকুন নাহার বলেন, আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের লক্ষ্য শুধু বই প্রদর্শন নয়, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি ও সমকালীন লেখকদের আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে পরিচিত করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলা বইয়ের অনুবাদ, বিদেশি প্রকাশকদের সঙ্গে বইয়ের স্বত্ব নিয়ে আলোচনা এবং নতুন লেখকদের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেত। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বয় জরুরি।
এ বিষয়ে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় উপস্থিত বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।




