কবরের জায়গারও অভাব গাজায়
- হাজার হাজার মৃতদেহ সমাহিত হয়েছে অস্থায়ী সমাধিস্থলে
- দাদার কবরে বাবাকে দাফন করেন ছেলে ওমর আল-সাউহি

সংগৃহীত ছবি
আপনজন পাড়ি দিয়েছেন না-ফেরার দেশে। তাকে সমাহিত করতে দরকার এক টুকরো জায়গা। প্রতিটি কবরস্থান ঘুরে চোখে পড়ে, চারদিক একের পর এক মরদেহে ঠাসা। দিগ্বিদিক ঘুরেও কাছের মানুষকে কবর দেওয়ার জন্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না স্থান। এই চিত্র ফিলিস্তিনের গাজার। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে ফুরিয়ে এসেছে মৃতদেহ দাফনের জায়গা। গত শনিবার আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গাজার এমন পরিস্থিতির খবর।
গাজা শহরের জেইতুন এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-সাউহি। গত ১০ জুন রাস্তার পাশে একটি ছোট চা-কফির দোকানে কাজ করছিলেন তিনি। ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি এই এলাকায় হঠাৎ ঘাড়ে গুলি লাগলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
বাবার মরদেহ দাফনের জন্য জায়গা খুঁজতে বের হন তার ২০ বছর বয়সী ছেলে ওমর আল-সাউহি। বাবাকে সমাহিত করতে ওমর যখন জেইতুন কবরস্থানে যান, দেখেন সেখানে গাদাগাদি করে অনেক কবর খোঁড়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার শিকার।
জায়গার অভাব এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক কবরের কোনো পাকা কাঠামো নেই। সেখানে কবরে রাখা হয়েছে শুধু একটি পাথর, আর তাতে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা এক টুকরো কাগজ।
আলজাজিরাকে ওমর বললেন, ‘আমি কবরস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসংখ্য কবর দেখতে পেলাম। সেখানে বালুর স্তূপের নিচে মানুষজনকে সমাহিত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বললেন, ‘নতুন কোনো কবরের জায়গাও ছিল না। তাই তাকে আমার দাদার কবরেই সমাহিত করতে হয়েছিল।’
মৃতদেহ সমাহিত করা: বর্তমানে গাজায় একটি কবরের জন্য খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ শেকেল (প্রায় ২০ হাজার ৫০০ টাকা)। মোটা টাকার এই অর্থ ওমর আল-সাউহির পরিবারের সাধ্যের বাইরে। বাবাকে দাফনের জন্য তাই তাদের খুঁজতে হয় বিকল্প উপায়।
গাজায় পরিষেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়া এবং ইসরায়েলি হামলার ঝুঁকির কারণে যুদ্ধের সময় হাজার হাজার মৃত ফিলিস্তিনিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাদের অনেককে সমাহিত করা হয় বাগান, তাঁবু কিংবা বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প, স্কুল বা হাসপাতালের প্রাঙ্গণে। কবরের এই ঘাটতির কারণ শুধু ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানিই নয়; বরং ইসরায়েল কর্তৃক সমাধিস্থল ধ্বংস করাও এর অন্যতম কারণ। গাজার আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ধ্বংস করা হয়েছে ৪০টির বেশি কবরস্থান। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আরোপ করেছে কবরস্থানে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ। এতে পরিবারগুলোর জন্য উপলব্ধ সমাধিস্থলের সংখ্যা আরও কমে গেছে।






