যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে বাথরুমেও যেতে পারেন না ইরানিরা!
- কুয়েত ও আমিরাতে বড় হামলা ইরানের সেনাবাহিনীর
- ইরানকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়ে প্রস্তরযুগ ও অন্ধকারের অতল গহ্বরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি ইসরায়েলের

সংগৃহীত ছবি
আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। শুধু ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়, বাগবিতণ্ডায়ও। বরাবরের মতো এবারও সম্মুখভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসের সংবাদ সম্মেলনে গর্ব করে বলেছেন, ‘ইরানের ওপর সর্বাত্মক নজরদারি চালাতে সক্ষম হয়েছে তার দেশ।’ একপর্যায়ে তিনি দাবি করে বসেন, ‘আমাদের নজর এড়িয়ে তারা (ইরানিরা) বাথরুমে পর্যন্ত যেতে পারছেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এদিনই আবার কুয়েত ও আমিরাতে বড় হামলা চালায় ইরান। তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল আরব দেশ দুটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, সরঞ্জাম ডিপো, যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, সৈন্যবাহিনীর অবস্থান এবং রাডার ব্যবস্থা। হামলার আশঙ্কায় আগাম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইরান হামলা চালালে জবাবে আরও কঠোর হামলা চালাবে ইসরায়েল। ইরানের জ্বালানি এবং শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রকে ইসরায়েল হামলার নিশানা বানাবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ অঞ্চলে ইরান তাদের রাডার ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছিল বলে দাবি তার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতমানের নজরদারি ব্যবস্থা থাকায় তারা ইরানের সব ঘাঁটি ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। রয়টার্স, তাসনিম নিউজ, বিবিসি, আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা: ইরানি সেনাবাহিনী গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সায়েকেহ’ (বজ্রপাত) অভিযানের ৩১তম ধাপের আওতায় হামলাগুলো চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক আগ্রাসনের ফলে ইরানি বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শাহাদাতবরণের প্রতিশোধ হিসেবে গতকাল ভোরে তারা বড় ধরনের এই আক্রমণ করে। বিবৃতি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণকারী ড্রোনগুলো কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-পরিচালিত ‘আহমেদ আল-জাবের’ বিমান ঘাঁটি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল-মিনহাদ’ বিমান ঘাঁটিতে হামলা করে। ইরানের সেনাবাহিনী তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাব থাকবে কঠোর।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি ইসরায়েলের: ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। তবে এরপরের জুলাই এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলায় অংশ নেয়নি ইসরায়েল। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তবে তার দেশ ইরানের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত হানবে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ইসরায়েলে হামলা চালালে তা ইরানকে আক্রমণের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ওপর থাকা বিদ্যমান সব সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে দেবে। গতকাল তিনি হুমকি দিয়ে আরও বলেছেন, ‘আমরা ইরানের সব জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো, যার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত, অচল করে দেব এবং দেশটিকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়ে প্রস্তরযুগ ও অন্ধকারের অতল গহ্বরে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।’





