চেহারা ভাড়া দিয়েই আয়!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুক্ষণ স্ক্রোল করলেই সামনে আসে একের পর এক এআই ভিডিও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে তৈরি এসব ভিডিও সৃষ্টি করে আসক্তি। কোন ঘটনার পর কি হতে পারে। নায়ক কী শেষ পর্যন্ত তার নায়িকাকে পাবে, আরও কত প্রশ্ন থাকে মাথায়। আর সেগুলোর উত্তর খুঁজতেই মনের অজান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায় এসব ভিডিওর পেছনে। তবে এসব এআই জেনারেটেড ভিডিওতে থাকা নকল চরিত্রে নিজের আসল চেহারা দিয়ে বিপুল অর্থ আয় করছেন চীনারা। নিজেদের মুখমণ্ডল বেঁচে আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার ডলার!
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের গত শনিবারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে ক্রমশ বাড়ছে ডিজিটাল ফেস-লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষকে সংযুক্ত করছে কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে। এর ফলে তারা অনুমতি দিতে পারছেন এআইনির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটক, বিজ্ঞাপন ও গেমের ক্ষেত্রে নিজেদের চেহারার ব্যবহারের। গত এপ্রিল মাস থেকে, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের অভ্যন্তরীণ চ্যাট গ্রুপগুলোয় সীমাবদ্ধ থাকা ব্যক্তিগত ‘মুখমণ্ডল-বিক্রয়’-সংক্রান্ত লেনদেনগুলো সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মগুলোয় স্থানান্তরিত হতে শুরু করেছে। ‘ন্যাশনাল বিজনেস ডেইলি’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ব্যাংক কর্মী মাত্র তিন দিনের মধ্যে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে সাতবার নিজের ছবি বা প্রতিকৃতি বিক্রি করেছেন। নতুন এই ব্যবসায় তিনি আয় করেছেন প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার। শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম শেনজেন-ভিত্তিক ‘ইউয়ানজিয়াং জিনশেং’। এটি গত মে মাসে চালু একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তৈরি করতে পারেন ‘ডিজিটাল অভিনেতা প্রোফাইল’। দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশের বাসিন্দা কেলি। তিনি তার ডিজিটাল পরিচিতি সুরক্ষার লক্ষ্যে যুক্ত হয়েছেন এই প্ল্যাটফর্মে। তিনি বলেছেন, ‘এআই আমার মুখের ছবি চুরি করে নেবে, এ নিয়ে আমি আর দুশ্চিন্তা করি না। কেউ যদি তা ব্যবহার করতে চায়, তবে তাকে আমাকে অর্থ দিতে হবে।’



