এআইয়ের ব্যাংক ডাকাতি!
- প্রথম শিকার ইতালি; হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি ইউরো
- যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটেও হস্তক্ষেপ ওপেন এআই বটের
- ৫৩ জন চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর ছবি ফাঁস

বিশ্ব জুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে রীতিমতো ব্যাংক ডাকাতি করে বসল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তিগত এ প্রতারণার প্রথম শিকার হলো ইতালির ‘ফিদিয়ুরাম’ ব্যাংক। ইতালির সর্ববৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্তেসা সানপাওলোর প্রাইভেট ব্যাংকিং শাখা। রয়টার্সের গত শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছদ্মবেশ ধারণকারী প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। সূত্রগুলো আরও জানায়, পরে চুরি হওয়া অর্থের অর্ধেকের বেশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ইউরোর।
অর্থ জালিয়াতির এ ঘটনা প্রথম প্রকাশ করে ইতালিয়ান গণমাধ্যম ‘কোরিয়ের দেলা সেরা’। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনাটি শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। সে সময় একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান ফিদিয়ুরামের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি। বার্তাটি দেখে মনে হয়েছিল, সেটি ইন্তেসা সানপাওলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কার্লো মেসিনার কাছ থেকে এসেছে। সেই বার্তায় চাওয়া হয়েছিল বিদেশে একটি লেনদেনের বিষয়ে জরুরি সহায়তা। এরপর প্রতারকরা একটি ফোন কলের মাধ্যমে ওই নির্দেশটি নিশ্চিত করে। কলটি একটি শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিষ্ঠানের কোনো জ্যেষ্ঠ অংশীদারের কাছ থেকে এসেছে বলে মনে হয়েছিল। সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই আইনজীবী বা আইনজীবীর কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করতে প্রতারকরা ব্যবহার করেছিল এআই প্রযুক্তি। লেনদেনের অনুরোধটি আসল ভেবে মোলেসিনি তার অর্থ বিভাগকে প্রধানত চীন ও হংকংয়ের একাধিক বিদেশি অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইন্তেসা সানপাওলো ও ফিদিয়ুরাম।
এনডিটিভির গতকাল শনিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিদিয়ুরাম দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অসংগতি শনাক্ত করে। এ বিষয়ে তারা তৎক্ষণাৎ সতর্ক করে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও কর্তৃপক্ষকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, পরে চীন, পর্তুগাল ও ইতালির কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। অবশিষ্ট অর্থ বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের একটি নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করা হয় এবং এরপর সেগুলোর আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলেও যোগ করেন তারা।
ওপেন এআই বট: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটেও অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছে ওপেন এআই বট। ফাঁস করেছে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী ৫৩ জনের ছবিও। বিবিসির গতকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেন এআই স্বীকার করেছে, সংস্থাটির এআই বটগুলো হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অনুপযুক্ত কোনো কার্যকলাপ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইটে। এ বিষয়ে বিশ্বের ‘ডজন ডজন’ প্রতিষ্ঠানকে সতর্কও করেছে ওপেন এআই।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাবলিক ব্লগে গত শুক্রবার জানিয়েছে, এআই এজেন্টরা ‘সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান’-এর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। বটের হস্তক্ষেপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, আদমশুমারি ব্যুরো এবং শিক্ষা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, বটগুলোর মাধ্যমে সরকারি যেসব তথ্যে প্রবেশ করা হয়েছিল, তার সবই ছিল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
মোলেসিনি বা ফিদিয়ুরামের অন্য কোনো নির্বাহীর বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছে না। তবে একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিলানের সরকারি আইনজীবী ইউরোপের বাইরে বসবাসরত এক বিদেশি নাগরিককে কম্পিউটার জালিয়াতির সন্দেহে তদন্তের আওতায় এনেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মার্চ মাসে চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোলেসিনি। সে সময় তার সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ফিদিয়ুরাম আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। গত বছর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এক ইতালীয় মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে প্রতারকরা ব্যবসায়ী মাসিমো মোরাত্তিকে মানিয়েছিল প্রায় ১০ লাখ ইউরো একটি বিদেশি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার জন্য। পরে সেই অর্থ করা হয় উদ্ধার।



