পাকিস্তানে বন্যা-ভূমিধসে ১৫১ জনের মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় গত ২৬ জুন থেকে এ পর্যন্ত ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)। একই সঙ্গে আগামী ৮ আগস্ট থেকে নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।
২৬ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায়। সেখানে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর পাঞ্জাবে ৫৩, সিন্ধুতে ১৫, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ১০, বেলুচিস্তানে ৮ এবং গিলগিট-বালতিস্তানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এনডিএমএ জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই পানিতে ডুবে, ঘরবাড়ি ধসে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এবং আকস্মিক বন্যায় মারা গেছেন। চলতি মৌসুমি বৃষ্টির সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪৪৮ জন। তাদের মধ্যে ১৫০ শিশু, ১০৮ নারী ও ১৯০ জন পুরুষ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এনডিএমএ জানিয়েছে, আগামী ৮ আগস্ট থেকে দেশে আবারও বৃষ্টির নতুন ধারা শুরু হতে পারে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতি ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট থেকে নতুন করে বৃষ্টির ধারা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এতে আরও বলা হয়েছে, আসন্ন আবহাওয়াব্যবস্থার প্রভাবে পাঞ্জাব, উত্তর-পূর্ব সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
এনডিএমএ আরও জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে একটি পশ্চিমা লঘুচাপ প্রবেশ করতে পারে। এর প্রভাবে দেশের প্রধান সব নদীর উজানের অববাহিকা, ইসলামাবাদ, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর, গিলগিট-বালতিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং উত্তর পাঞ্জাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম পাকিস্তান। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান ১ শতাংশেরও কম। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ওই বন্যায় ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান এবং অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।
২০২২ সালের সেই ভয়াবহ বন্যার পর দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারে হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয়ের ব্যবস্থা বাড়িয়েছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে আবহাওয়ার ধরন আরও অনিয়মিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরা থেকে শুরু করে ভয়াবহ বন্যা—বিভিন্ন ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং তীব্রতাও বাড়ছে। এতে দেশটির ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিপদ আরও বাড়ছে।
সূত্র : পাকিস্তান টুডে




