ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বললেন আরাঘচি
ইরান যুদ্ধে ব্যর্থ ভূমিকার জন্য ইউরোপকে জবাবদিহি করতে হবে

মিলি ব্যান্ডের সঙ্গে আব্বাস আরাঘচি। ছবি: দ্য টেলিগ্রাফ
মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইউরোপীয় ৩ পরাশক্তি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি অবশ্যই দায়বদ্ধ। এ জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলি ব্যান্ডকে এমনটা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
আজ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মিলি ব্যান্ডের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি এ কথা বলেন। বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।
আরাঘচি এই অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতাকে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, কিছু ইউরোপীয় দেশের সমর্থন ও সহযোগিতায় পরিচালিত এই আগ্রাসন ইরান, পুরো অঞ্চল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
আরাঘচি বলেন, ‘স্ন্যাপব্যাক পদ্ধতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি পদক্ষেপ অনুসরণ করা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে জোরাল অবস্থান না নেওয়ায় তিন ইউরোপীয় দেশকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নির্ভর করছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখলদারিত্ব মুক্ত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার, বিশেষ করে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার নিশ্চিত করার ওপর।’
আরাঘচি ইরান ও আঞ্চলিক ঘটনাবলীর বিষয়ে তাদের ‘ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিবেচনা করার জন্য ব্রিটেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং মানবাধিকারের ধারণাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে জোর দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলি সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্রিটেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সমর্থন ফিলিস্তিনি ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অপরাধ বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তিনি জানান, প্রাসঙ্গিক আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্রিটেন ও অন্যান্য দেশ বাধ্য।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আরাঘচি বলেন, এই সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তেহরান কূটনৈতিক পথে হাঁটতে প্রস্তুত।
দুই মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও মতামত বিনিময় করেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে স্বীকার করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের সময় ইউরোপের ঘাঁটিগুলো থেকে ৪-৫ হাজারের মতো মার্কিন সামরিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছিল।
ইউরোপকে ‘ক্ষমতা প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেন রুটে। এটি ছাড়া ওয়াশিংটন এই অভিযান চালাতে পারত না। ঘাঁটি, আকাশসীমা, ট্যাংকার এবং রসদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইতালি, রোমানিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের নামও উঠে এসেছে।
যুদ্ধের সময় শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে জবাব দিয়েছিল। একই সঙ্গে সামরিক চাপও বজায় রেখেছিল যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতিতে যেতে ভূমিকা রাখে।



