বৈশ্বিক গবেষণা
যুদ্ধের মাঠে বড় অস্ত্র ক্ষুধা

যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ক্রমেই বাড়ছে ক্ষুধার ব্যবহার। ২০১৮ সাল থেকে বাজার, কৃষিজমি এবং খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থার ওপর ২১ হাজারের ওপর হামলার নথিভুক্ত ঘটনা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইনসিকিউরিটি ইনসাইট। গার্ডিয়ান।
আক্রমণগুলোর মধ্যে রয়েছে— পরিবারের দৈনন্দিন বাজারের জন্য ব্যবহৃত বাজারগুলোয় ১ হাজার ২৬১টি হামলা। খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ৮৬৩টি ঘটনা, যেখানে হত্যা করা হয়েছে কর্মীদের। বিশ্লেষণটিতে জাতিসংঘের প্রস্তাব ২৪১৭ সর্বসম্মতিক্রমে বেসামরিক লোকদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার নিন্দা জানানোর পরবর্তী সময়কালকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, গাজা, সুদান, লেবানন ও হাইতিসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে খাদ্য সরবরাহকে। ক্রমেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অনাহারকে।
ইনসিকিউরিটি ইনসাইটের সংগৃহীত তথ্যে, ২০১৮ সালের পর থেকে ১৫টি দেশে খাদ্য সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ২১ হাজার ৪০৩টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ওই বছর সর্বসম্মতিক্রমে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মানবিক সহায়তা বেআইনিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ১ হাজার ৯০৯টি কৃষিজমিতে সামরিক হামলা এবং ফসল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পানি অবকাঠামোর ওপর আরও ৫৬৩টি হামলার ঘটনা খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। এ ঘটনা ৪২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করেছে।
সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত ঘটনার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল, যেখানে ৯ হাজার ১৩টি হামলা হয়েছে। এরপর ইয়েমেনে ১ হাজার ৮৬৩টি ঘটনা। এ ছাড়া সুদানে ১ হাজার ৬০৫টি হামলায় খাদ্যকে করা হয়েছে লক্ষ্যবস্তু। সুদানের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর একটি মঙ্গলবার ঘটে। যখন একটি ড্রোন ব্যস্ত বাজারে আঘাত হানে এবং নিহত হন ২৮ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, পশ্চিম কর্দোফানের ঘুবাইশ শহরের প্রধান বাজারটি যখন বেসামরিক লোকজনে পরিপূর্ণ ছিল, তখন সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সেটিকে করেছে লক্ষ্যবস্তু।
খাদ্য সরবরাহের ওপর বারবার হামলার নথি পাওয়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, যেখানে ১ হাজার ৫৩৮টি ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে শাসক জান্তার সংগ্রামের মধ্যে ১ হাজার ৪১৫টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ১০ হাজার ৩০০-রও বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।






