ব্রিটেনের ইইউতে ফেরার ভাবনা, পাশে থাকবে জার্মানি

ব্রেক্সিটের ভারী দরজা কি আবার উল্টো দিকে খুলতে শুরু করেছে? এক দশক আগে যে বিচ্ছেদ ইউরোপের রাজনীতিকে কাঁপিয়েছিল, সেই পথেই এবার উল্টো যাত্রার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছে লন্ডন; আর বার্লিন, প্যারিস ও মাদ্রিদ থেকে আসছে স্বাগত বার্তা।
গতকাল শুক্রবার দ্য ইন্ডিপেনডেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জার্মানি তাকে স্বাগত জানাতে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করবে। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত সুজানে বাউমান বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্য ইউরোপের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’ ব্রিটিশ জনগণ ভবিষ্যতে ইউরোপের সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায়, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই; তবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সম্পর্ক গড়তে জার্মানিকে পাশে পাবে লন্ডন। এই মন্তব্য এসেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সাম্প্রতিক অবস্থানের পর। বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় সম্পর্ক নিয়ে সব বিকল্পই পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমান ব্যবস্থায় থাকা, শুল্ক ইউনিয়নে যোগ দেওয়া, একক বাজারে ফেরা কিংবা পূর্ণ সদস্যপদের জন্য আবেদন— কোনোটিকেই তিনি আলোচনার বাইরে রাখছেন না। পরবর্তী লেবার নির্বাচনী ইশতেহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফেরার প্রশ্নে গণভোটের প্রতিশ্রুতিও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জার্মানির আগেই ফ্রান্স ও স্পেন একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। গত বুধবার মাদ্রিদে স্পেন সফরকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বার্নহ্যামের বক্তব্য শুনে বলেছিলেন, ‘ফিরে এলে স্বাগত।’ পরে তার ভাষ্য, ব্রিটিশরা ফিরতে চাইলে এবং প্রধানমন্ত্রী সে পথে এগোলে তা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ উভয়ের জন্যই ‘খুব ভালো খবর’ হবে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও বলেছেন, ব্রিটেন ফিরতে চাইলে স্পেন ‘দুই হাত বাড়িয়ে’ স্বাগত জানাবে।
ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্য তাদের ‘ঘনিষ্ঠ ও মূল্যবান অংশীদার’ এবং লন্ডন ভবিষ্যৎ সম্পর্কের যে বিকল্পই সামনে আনুক, ইইউ তা নিয়ে আলোচনায় উন্মুক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আবার যোগ দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য রাজনৈতিক সদিচ্ছায় শেষ হবে না। ইউনিয়ন চুক্তির ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবেদন করলে সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মতি এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। বার্নহ্যাম এর আগে বলেছিলেন, নিজের জীবদ্দশাতেই তিনি যুক্তরাজ্যকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেখতে চান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লেবার পার্টির দলীয় সম্মেলনে তিনি ব্রেক্সিটকে লাভের চেয়ে ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেন।



