যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মধ্যেও জ্বালানি রপ্তানি করতে পেরেছে ইরান

ফাইল/রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মধ্যেও জুলাই থেকে কিছু তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট জ্বালানি রপ্তানি করতে পেরেছে ইরান। জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য এবং নিরাপত্তা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণ করেন—এমন সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতের চার ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওমানের উপকূলের কাছে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জাহাজে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের (এসটিএস) ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের আড়ালে এসব চালান লুকিয়ে রাখছে তেহরান।
যদিও দেশটির আগের জ্বালানি রপ্তানির তুলনায় এসব চালানের পরিমাণ সামান্য। তবে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া অবরোধের মধ্যেও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বাইরে পাঠানোর বিরল প্রমাণ এগুলো।
ইরান-সম্পর্কিত ট্যাংকার চলাচল জাহাজ ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান (ইউএএনআই)। সংগঠনটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অন্তত আটটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার ইরানের এলপিজি নিয়ে ওমান উপসাগর ছেড়েছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা সিনম্যাক্সের অতিরিক্ত স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের জেট জ্বালানি বহনকারী আরেকটি ট্যাংকার সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে পৌঁছেছে।
বেসামরিক মানুষের ওপর সামরিক বিমান হামলার অভিযোগে ২০২৩ সালে মিয়ানমারের জেট জ্বালানি খাতে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের হিসাবে, এসব হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। মিয়ানমারের সামরিক সরকার বারবার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের অভিযান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে।
জাহাজগুলো এবং মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, আটটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারের মধ্যে ছয়টি এবং জেট জ্বালানিবাহী ট্যাংকারটি ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
ইউএএনআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেমিমা শেলি বলেন, ‘আমরা ইরানের এলপিজি বহনকারী হাতে গোনা কয়েকটি ট্যাংকারকে অবরোধ পার হতে দেখেছি। তবে ইরানি পণ্যবোঝাই অধিকাংশ ট্যাংকারকে মার্কিন বাহিনী অন্য পথে পাঠিয়ে দিয়েছে।’
শেলি বলেন, ইরানের কিছু এলপিজিবাহী ট্যাংকার ওমানের উপকূলীয় শহর শিনাস ও সোহারের কাছে পণ্য অন্য জাহাজে স্থানান্তর করেছে। অন্যগুলো ওমান উপসাগরে অপেক্ষা করার পর মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ওমান উপসাগরে এই অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
শেলির হিসাবে, এসব এলপিজি চালানের মোট পরিমাণ প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল।
তিনি বলেন, ছোট জাহাজ ব্যবহার করে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির নতুন প্রবণতা গড়ে তোলার চেয়ে এসব চালানের পেছনে ‘সুযোগের সদ্ব্যবহার’ই বেশি কাজ করেছে।
ইউএএনআইয়ের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শেলি বলেন, অধিকাংশ চালান মালয়েশিয়ার ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস এলাকায় গেছে। সেখানে পণ্য আরও একবার জাহাজে জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে, সম্ভবত চীনে পাঠানোর জন্য।



