যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই পিছিয়ে দেয় সুইজারল্যান্ডের বৈঠক
- যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলার প্রতিবাদেই বেঁকে বসে তেহরান

ইসরায়েলি হামলার পর দক্ষিণ লেবাননজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি : রয়টার্স
সব ঠিকঠাক। এলান হয়ে গেছে। কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন দুই দেশের সেই নামও মুখে মুখে। রাজকীয় অভ্যর্থনার ডালা সাজিয়ে অপেক্ষায় রূপসী সুইজারল্যান্ডের পাহাড়চূড়ার বিলাসী রিসোর্টও। বুকের খাঁচা খুলে ডানা মেলে বিমানবন্দরে বসে দু-দেশের দুই উড়ালপঙ্খী। আবহাওয়া দফতরে হাওয়া পাড়ার গতিবধিও ফুরফুরে। কূটনীতির টক-ঝাল মসলা মাথায় পা বাড়াবেন শান্তির সওদাগররা। হঠাৎ উল্টে গেল সব। মূহূর্তে পণ্ড হয়ে গেলো আয়োজন। শুক্রবারের আলোচনা বাতিল। তড়িঘড়ি বিবৃতিতে জানিয়ে দিল পাকিস্তান।
যেন বাজ পড়লো মধ্যপ্রাচ্যে। কালো মেঘে ঢেকে গেলো শান্তির রামধনু। ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সূর্য। যেন আঁতুরঘরেই নিভে গেলো নবজাতকের প্রাণ! আলোচনা তো বটেই, পেছনের চুক্তিও তছনছ।
ভেস্তে যেতে বসেছে কি ১৪ শেকলে বাঁধা শান্তির চুক্তি? মুহূর্তের জন্য হলেও এই ভয়েই গলা শুকিয়ে গিয়েছিল বিশ্বের! সর্বনাশের গন্ধ পেয়ে উতলা হয়ে উঠেছিলো দিশেহারা খবর পাড়াও।
শুরু হয় সত্য তল্লাশি অনুসন্ধান। কেন দু-পা এগিয়েই ৪ পা পিছিয়ে গেল তেহরান?
বৃহস্পতিবারই বেরিয়ে এলো নেপথ্যের সত্য। মার্কিন দৈনিক অ্যাক্সিওসে ফাঁস হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেই চেপে যাওয়া লজ্জা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুদ্ধবিরতি ভেঙে লেবাননে হামলার প্রতিবাদেই হঠাৎ এই ব্যাকফুট ইরানের। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে এসে বেঁকে বসে ইরানই। পিছিয়ে দেয় শান্তি আলোচনা।
এদিন একই খবর দেয় হিজবুল্লাহঘনিষ্ঠ একটি টিভি চ্যানেলও। জানায়, ‘ইরান- মার্কিন ৬০ দিনের চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা থামায়নি ইসরায়েল। লেবাননে রক্তপাত পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনও শান্তি আলোচনা এগোবে না।’
অথচ আসল কারণটিই সামনে আনেনি যুক্তরাষ্ট্র! চুক্তির জন্য পায়ে পড়তে হচ্ছে ইরানের- এই তেতো সত্যটি চেপে রাখতেই গাল ভরা মিথ্যা ছেড়ে দেয় বাজারে। মুখ দেখাতে ঘোমটা খুলে সামনে আসে হোয়াইট হাউস। জানায়, ‘স্থগিত করা হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর।’ কারণ দেখালো, ‘লজিস্টিকস সমস্যা।’ অর্থাৎ আতংকের কিছু নেই। চুক্তি অটুট। ভাঙেনি।
পরে জেডি ভ্যান্স নিজেও বিবৃতিতে জানান, সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের প্রতিনিধি দল কখন সেখানে পৌঁছাতে পারবে তার ওপর। রহস্য দানা বাঁধে তখনই; বুধবারের ওই সংবাদ সম্মেলনে যখন তিনি বললেন, ‘এই সপ্তাহান্তেই অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা।’ একবার ইরানের পৌঁছানোর দোহাই; পরক্ষণেই আবার সপ্তাহান্তের কথা! এলোমেলো বিবৃতি। বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ যাকে বলে!
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসানে গত বুধবার ১৪ দফার চুক্তি পত্রে ডিজিটাল সীলমোহর দেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট। ফ্রান্সের ভার্সাই প্যালেসে বসে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে তেহরানে সই করেন ইরানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
কথা ছিল সুইজারল্যান্ডের মনোরম পরিবেশে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে চুক্তির। শুরু হবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা। কিন্তু শুরুর আগেই বাতিল হয়ে গেলো বৈঠক। চমকে উঠলো গোটা পৃথিবী। অনিশ্চয়তার পড়ে গেল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি।




