খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া রহস্যময় মুখোশধারী ব্যক্তি কে?
এনডিটিভি

খামেনির জানাজায় দেখা যায় একজন রহস্যময় মুখোশধারী ব্যক্তিকে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় দেখা যায় একজন রহস্যময় মুখোশধারী ব্যক্তিকে। এর পর থেকেই তার পরিচয় নিয়ে চলছিল জল্পনা। তবে অবশেষে জানা গেছে তার পরিচয়। তাকে খামেনির জ্যেষ্ঠ নাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে একটি ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
জানাজার নামাজে সামনের সারিতে কালো মুখোশ ও কালো বেসবল ক্যাপ পরা এক ব্যক্তিকে বসে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি, যাকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ জাওয়াদ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মোস্তফা খামেনির সন্তান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার মুখ গুরুতর দগ্ধ হয়। এসব আঘাতের কারণেই জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি মুখ কালো মুখোশে ঢেকে রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
হামলার পর থেকে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়েও জল্পনা চলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, হামলায় মোজতবা গুরুতর আহত হন এবং তার চেহারা মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার সময় মোজতবা তার বাবার একই বাসভবনে ছিলেন। তবে তিনি অন্য একটি কক্ষে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সে সময় সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান বলেছিলেন, মোজতবার পা, হাত এবং বাহুতে আঘাত লেগেছে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
হামলার পর থেকে মোজতবা প্রকাশ্যে কোথাও দেখা দেননি এবং কোনো বক্তব্যও দেননি। অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাতে লেখা বার্তার মাধ্যমে ইরানের সামরিক কমান্ডার এবং জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
সাত দিনের শোকানুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার কফিন নিজ শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে নেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, শোকানুষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।






