ইরানের ছাড়পত্রের পরও হামলার শিকার পাকিস্তানের এলএনজি জাহাজ

এলএনজিবাহী জাহাজ আল মায়েদা— মেরিন ট্রাফিক
হরমুজ প্রণালির কাছে শুক্রবার হামলার শিকার হয়েছে পাকিস্তানগামী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ আল মায়েদা। এর আগে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছিল পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন এ তথ্য।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজটি কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সেটি হামলার শিকার হয় বলে ওই ব্যক্তিরা জানালেন। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের ভাষ্য, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানি কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে চলাচলের সবুজ সংকেত দিয়েছিল।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজটি দিক পরিবর্তন করে পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নিজেদের সম্পদ রক্ষা এবং জাহাজ ও এর নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার কাতার সংরক্ষণ করে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি এবং এর জন্য দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত করছে।
ভারতের নৌপরিবহনমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো প্রক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। তিনি জানালেন, ছয় ভারতীয় নাগরিকসহ জাহাজটির ২৫ জন নাবিকই নিরাপদে আছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, যা নাকিলাত নামে পরিচিত, রবিবার জানিয়েছে, জাহাজটি এখনো সচল রয়েছে এবং এর অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কেন জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়েছে কিংবা এটি এখনো গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকার কারণে পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত এক মাসে কাতারের এলএনজিবাহী আরও কয়েকটি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পাকিস্তান। সেসব জাহাজের সব কটিই সফলভাবে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
এ ঘটনা হরমুজ প্রণালির আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য অব্যাহত ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে কয়েক মাস ধরেই জ্বালানিসংকটে ভুগছে দেশটি। এই এলএনজি চালান না পেলে পাকিস্তানকে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হতে পারে। সেখানে দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়, কাতারএনার্জি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মাত্রার প্রায় ৩০ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মিতভাবে এই প্রণালি দিয়ে এলএনজি পাঠিয়ে আসছে কাতার। এর মধ্যে পুরনো জাহাজও রয়েছে, যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে চলাচলের জন্য অতিরিক্ত বিমা ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ




