কার হাতে ইরানের ক্ষমতা?

ইরানের ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে উত্তেজনা। একে তো শান্তিচুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। এর মধ্যেই শোনা যাচ্ছে নতুন এক গুঞ্জন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার দাবি, ইরানের ‘কার্যকর’ নেতা হিসেবে নেই মোজতবা খামেনি, বরং দেশটির ক্ষমতা রয়েছে অন্যদের হাতে। ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররাই নিচ্ছেন দেশটির সব সিদ্ধান্ত, বলছে দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এমনকি খামেনিকে সম্বোধন করা বাদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ইরানিরা নিজেরাই জানে না, তাদের নেতা কে। দেশটির নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিভ্রান্ত।
তবে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার বরাতে বলছে তারা, মানসিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন মোজতবা খামেনি। দেশের বিষয়ে সব খোঁজখবরও রাখছেন তিনি, প্রয়োজনে জানাচ্ছেন সিদ্ধান্তও। কিন্তু বাস্তবে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না তাকে। প্রকাশ হয়নি কোনো ভিডিও বা বক্তব্য। শুধু কিছু লিখিত বার্তা আনা হয়েছে প্রকাশ্যে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলেছে সমঝোতার চেষ্টা। বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল জেডি ভান্স এবং মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে সেই আলোচনা।
ইরানের ভেতরের মতবিরোধই এর কারণ বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, আলোচনার ঠিক আগে আগে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল ইরানের আলোচক দলকে। নির্দেশনাটি এসেছিল সরাসরি খামেনির ঘনিষ্ঠ মহল থেকে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেই নির্দেশের পর, এই অবস্থায় আলোচনায় যাওয়ার কোনো মানে নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এমনকি, আলোচনাটিকে ‘মৃত্যুদণ্ড’-এর মতো মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানের প্রেসিডেন্টেরও নেই তেমন কোনো ক্ষমতা। শুধু ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে আইআরজিসি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে তারাই।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়। ইরানে আসলে কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা নিয়ে এখনো রয়ে গেছে বড় প্রশ্ন।

