ইরানি সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগরে এলে ‘ডুবিয়ে দিতে’ প্রস্তুত ইরান

তেহরানের একটি ভবনে জাতিসংঘের ফাঁকা অধিবেশনকক্ষে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দেখানো একটি বিলবোর্ড। ফাইল ছবি / রয়টার্স
পারস্য উপসাগরের দিকে এগোলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, এই অঞ্চলে যেকোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এমন সময় এই হুঁশিয়ারি এলো, যখন ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘আরেকটি এপিক ফিউরি’ চালাতে পারে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বোমা হামলার প্রসঙ্গ টেনে এ কথা বলেছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে দ্রুত সংঘাত শেষ করা হবে, নাকি নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে—তা নিয়ে ভাবছে ওয়াশিংটন।
এর জবাবে শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে আবদুল্লাহি বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু স্বপ্নই দেখতে পারেন যে তাদের সেনা ও সামরিক বাহিনী আবার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে। এই ইচ্ছা তাদের চিরতরে কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’
ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যেও ‘বিরোধ’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আবদুল্লাহি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বেশির ভাগ ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা নিজেদের বিমানবাহী রণতরী ও অন্য যুদ্ধজাহাজ ইরানের কাছাকাছি আনতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে ‘চোরাবালিতে ডুবিয়ে দিতে’ ইরানি বাহিনী প্রস্তুত বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আবদুল্লাহি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির দাবি, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সাতটি তেলবাহী জাহাজ হামলা বা মাইনের শিকার হয়েছে। শুক্রবার আরও দুটি বড় তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত করেছে বলে দাবি করেছে তারা। নতুন করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলারে উঠেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধ ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অংশ নেয়নি।
বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, ‘ইরানে নতুন হামলা হলে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়বে—এ বিষয়ে আমরা একমত। সামরিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই সমাধান নয়। এই মুহূর্তে কেউই তা সমর্থন করছে না।’
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলা আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে নতুন হামলার হুমকি ও পাল্টা হুঁশিয়ারির মধ্যে অঞ্চলটিতে আবারও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
সূত্র : আলজাজিরা




