ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে না, শিগগিরই কিছু ঘটবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, ইরানকে ঘিরে ‘একভাবে না একভাবে’ শিগগিরই একটি সমাধান হবে। বুধবার সাউথ ক্যারোলাইনার একটি সমাবেশ থেকে ফেরার পর জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে এসেছেন কি না। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘না, আমরা আলোচনা করছি না। একভাবে না একভাবে কিছু একটা হবে। এটা খুব শিগগিরই ঘটবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ বিষয়ে কিছু ঘটতে পারে— এমন ধারণার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ মনে করছেন, এটি নির্বাচনের পর হবে। দেখা যাক কী হয়।’
এর আগে সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে পারে। তবে তিনি চান, যে ফল আসবে তা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। তার ভাষায়, ‘এটি খুব শিগগিরই শেষ হবে। আমরা এখনই চলে যেতে পারি। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে চাই, এটি যেন দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত করেছে। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি এ তথ্য জানিয়েছে।
তবে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও ট্রাম্প তা অনুমোদন করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান ফের শুরু করার কয়েকটি পরিকল্পনা ট্রাম্প এরই মধ্যে নাকচ করেছেন। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভাব্য বা বাস্তব সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসন কোনো মন্তব্য করে না।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে তেহরান হরমুজ প্রণালির নৌচলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথগুলোর একটি এই প্রণালি।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে হরমুজে নৌচলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সেই সমঝোতা এখন থমকে আছে।
সূত্র- আল জাজিরা




