বিক্ষোভে মুসলিমদের জড়িয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বললেন মাখোঁ

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। ট্রাম্পসহ কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার মাখোঁ অভিযোগ করেছেন, ‘ফ্রান্সের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন বিদেশি নেতারা। তাদের মধ্যে আটলান্টিকের অন্য প্রান্তের নেতারাও রয়েছেন।’
এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি ট্রাম্পের কথা বলছেন কি না। জবাবে মাখোঁ বলেছেন, ‘অন্যদের পাশাপাশি তার কথাও বলছি।’
ট্রাম্প এর আগে ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, এর সঙ্গে স্কুল বা অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই। মাখোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অভিবাসনের কারণে প্যারিস শিগগিরই ‘মুসলিম শহরে’ পরিণত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে।’ একই সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তবে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন মাখোঁ। তিনি বলেছেন, ফ্রান্সে অভিবাসী ও ইসলামপন্থীদের ঢল নেমেছে— এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
মাখোঁর অভিযোগ, গত সপ্তাহান্তে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে লুটপাটের পর বিদেশ থেকে তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি ফ্রান্সে ঘটেনি, এমন ঘটনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবিও ছড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে থাকা কিছু বিদেশি নেতা এসব ছবি ও বক্তব্য ব্যবহার করছেন। নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য তারা ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছেন।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে প্রস্তুত ফ্রান্স।
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে। তারা আরও শিক্ষক নিয়োগ ও স্কুলের পরিবেশ উন্নত করার দাবি জানিয়েছিল।
পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের দাবিগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে দ্রব্যমূল্য ও সরকারি সেবা।
সূত্র : এনডিটিভি




