প্রমাণ পেল জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা
পাহাড়ের নিচে ইরানের গোপন পারমানিবিক কর্মকান্ড !
- পিক্যাক্স মাউন্টেন কার্যক্রমে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা

ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ নামের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নতুন কার্যক্রমের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক স্থাপনা ঘিরে ফের বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ নামের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নতুন কার্যক্রমের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে এই খবর নতুন করে আলোচনায় এনেছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে।
বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএইএ নিশ্চিত করেছে যে ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার কাছে অবস্থিত পিক্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় কার্যক্রম চলছে। তবে সংস্থাটি এখনও নিশ্চিত করে বলেনি যে সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ হচ্ছে কি না। মার্কিন থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নতুন স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ বছর ওই স্থাপনায় ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ দেখা গেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে একচেটিয়াভাবে সিএনএনকে বিশ্লেষণটি দেওয়া হয়। সিএসআইএসের বিশ্লেষকদের মতে, ভূগর্ভস্থ এই স্থাপনাটি সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ধারণা করছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরান তার সেন্ট্রিফিউজগুলো এই স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে
তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে পিক্যাক্স মাউন্টেন ইরানের অন্যতম গোপন ও সুরক্ষিত স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এটি পাহাড়ের গভীরে তৈরি করা একাধিক সুড়ঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই এই স্থাপনা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান সেখানে কোনও ধরনের “উসকানিমূলক কার্যক্রম” চালালে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, তেহরানের উচিত “খেলাধুলা না করা”।
ইরান অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরানের বক্তব্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা গবেষণার প্রয়োজনেই তারা পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে; পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও পরিকল্পনা নেই।
তবে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের মূল কারণ হলো, আইএইএ বর্তমানে ইরানের কিছু পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি যাচাই করতে পারছে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, কিছু স্থাপনা ও মজুত ইউরেনিয়ামের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের পরমাণু অবকাঠামো দুর্বল করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। পিক্যাক্স মাউন্টেনের গভীর ভূগর্ভস্থ অবস্থান এটিকে হামলার দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থাপনার গুরুত্ব শুধু ইরানের পরমাণু কর্মসূচির জন্য নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। যদি স্থাপনাটি নিয়ে সন্দেহ বাড়ে, তবে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
আইএইএর পর্যবেক্ষণ এখন তাই শুধু একটি স্থাপনার কার্যক্রমের খবর নয়; এটি ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের নতুন অধ্যায়। পাহাড়ের গভীরে কী তৈরি হচ্ছে, তার উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।



