ইসমাইল বাকাই
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর নাকচ, পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ফাইল ছবি
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ জানানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, গত ১৭ জুনে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করা হলে তার বিপরীতে সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাকাই স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নীতি বর্তমানে দৃঢ়ভাবে ‘প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি’ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে আইআরআইবি নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার দাবি এবং যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন।
তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য কোনো অনুরোধ করিনি।’
তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরান আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর অনুরোধে তেহরান সফরে আসা কাতারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার মাশহাদে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
বাকাই জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসে, তখন তারা অজুহাত দিয়েছিল যে ইরানের পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওয়াশিংটন আসলে নিজের সঙ্গেই দ্বন্দ্বে লিপ্ত।
তিনি বলেছেন, গত ১৭ জুন ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর গত ২২ দিনে যুক্তরাষ্ট্র এর বিভিন্ন ধারা বারবার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের মার্কিন হামলা সমঝোতার প্রথম ও দ্বিতীয় দফার চরম লঙ্ঘন। যেখানে স্পষ্টভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এ ছাড়াও ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপকে তিনি নিষেধাজ্ঞামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি হিসেবে নিন্দা জানান।
বাকাই জোর দিয়ে বলেছেন, যদি অন্য পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে, যা তারা এরই মধ্যে করেছে, তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং তা তারা নিয়েছেও। এই নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পারমাণবিক ফাইল নিয়ে বৈঠকের বিষয়ে বাকাই বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের একটি একঘেয়ে এবং প্রোপাগান্ডা পদক্ষেপ, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
তিনি উল্লেখ করেছেন, চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই বৈঠকের বিরোধিতা করেছিল। এই বৈঠকে কোনো ফল আসেনি।
সূত্র : প্রেস টিভি




