হরমুজ খুলল, কী বলছে বিশ্ব

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে ইরান। শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
এক বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলো হরমুজ প্রণালি। ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে খুলে দেওয়া হয়েছে কৌশলগত এই জলপথ।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ইরানের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, আর কখনও হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করবে না বলে সম্মত হয়েছে ইরান। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে মার্কিন নৌ অবরোধ।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে তারা।
এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন পরিবাহিত হয় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল। ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল বিশ্বজুড়ে।
বিশ্বনেতাদের সতর্ক আশাবাদ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার মধ্যেও সতর্ক আশাবাদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।
যুক্তরাষ্ট্র: হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র ইরানের ক্ষেত্রে পূর্ণ শক্তিতে নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি কাছাকাছি। আর কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।
ইরান: ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে প্রণালি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে আব্বাস আরাগচি। তবে কিছু ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, কেবল অ-সামরিক জাহাজগুলোই চলাচল করতে পারবে আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে।
যুক্তরাজ্য: প্রণালি পুনরায় চালুর উদ্যোগকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি জানান, একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক মিশনে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য।
ফ্রান্স: ৪০ দেশের সঙ্গে বৈঠকে সব পক্ষের কাছ থেকে আমরা হরমুজ প্রণালির পুনরায় চালুর দাবি করেছেন বলে জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। টোল বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন তিনি।
জার্মানি: হরমুজ প্রণালি দিয়ে শিপিং নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক মিশনে মার্কিন অংশগ্রহণ চান দেশটির চ্যান্সেলর হলেন ফ্রিডরিখ মের্ৎস।
ফিনল্যান্ড: প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেছেন, ইরানের এই ঘোষণা আমরা স্বাগত জানাই। স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনীতি জরুরি।
জাতিসংঘ: ইরানের হরমুজ প্রণালি খোলার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সঠিক পথে একটি অগ্রগতি পদক্ষেপ এটি।
জাহাজ চলাচল ও ব্যবসায়িক প্রতিক্রিয়া
সব বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ।
নরওয়ের জাহাজমালিক সমিতি জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে মাইন, ইরানের শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
জার্মানির হাপাগ-লয়েড এবং ডেনমার্কের মায়ার্স্ক জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখনো প্রণালি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছে তারা।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
ইরানের ঘোষণার পর হু হু করে কমে যাচ্ছে তেলের দাম। বিশ্লেষক ক্যাথলিন ব্রুকস বলেছেন, বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে হরমুজ প্রণালি খোলার খবর। এটি যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশা জাগিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা



