সীমান্ত থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, দাবি ইরানি কমান্ডারের

আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি ফাদাভি। ফাইল ছবি / রয়টার্স
ইরানের সীমান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।
ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে। যদিও এটি তাদের পছন্দ ছিল না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং আইআরজিসির স্থলবাহিনীর শক্তির কারণে তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।’
ফাদাভি আরও দাবি করেছেন, প্রথমবারের মতো উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজ নেই। তার দাবি, হরমুজে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘১০০ শতাংশ’ ঝুঁকিতে আছে।
ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, কঠোরভাবে অবরোধ কার্যকর করতে জুলাই থেকে ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদিকে হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া ৭ শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি আর খুলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আজ রবিবার দেশটির সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ইরানের সাতটি শর্ত রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলার প্রশ্ন নেই।
গালিবাফ আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও সম্প্রতি একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভিন্ন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়া বা আলোচনা দীর্ঘায়িত করার সময় শেষ হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গালিবাফ বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’
এর আগে, রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের প্রস্তাব গ্রহণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে আরাগচি বলেছেন, প্রণালি খোলার জন্য ইরানের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা




