নিষেধাজ্ঞার চাপে ডলার কেনায় নতুন সীমা ইরানের

প্রতীকী ছবি
নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের আর্থিক ব্যবস্থায় সংকট বাড়তে থাকায় মার্কিন ডলার কেনার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার কিনতে পারবেন। তবে প্রতিদিন কেনা যাবে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ব্যাংক ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোর জন্য জারি করা নতুন নির্দেশনায় এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কম পরিমাণ ডলার কিনতে চাইলে গ্রাহকেরা ব্যাংক কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ডলার পর্যন্ত কেনার আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচিত কয়েকটি ব্যাংকের শাখা ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে সরকারি নির্ধারিত বিনিময় হারে ডলারের নোট বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করে বিদেশি মুদ্রা কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর এক মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ইরানি রিয়াল। বছরের শুরুতে এই দর ছিল প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার। অর্থাৎ, বছরের শুরু থেকে ইরানের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের অভিযান কার্যকর হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা একটি ভিডিওকে এ দাবির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
ভিডিওটিতে দেখানো হয়েছে ইরানের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের নিষেধাজ্ঞার আগের ও পরের উপগ্রহচিত্র। দুই মাস আগে ‘অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযান’ নামে পরিচিত কার্যক্রম শুরুর আগে দ্বীপটির কাছে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ দেখা যায়। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সেখানে কোনো তেলবাহী জাহাজ দেখা যায়নি।
বেসেন্টের দাবি, এই দৃশ্যই প্রমাণ করে যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের অভিযান কার্যকর হচ্ছে। তবে এ ভিডিও নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ দেশটির অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করছে। তবে কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পারসির মতে, অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করলেও আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
সূত্র: আলজাজিরা




