সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ যা বললেন শ্রীলেখা

শ্রীলেখা মিত্র
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র মানেই যিনি সবসময় নিজের মনের কথা অকপটে সবার সামনে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। সমাজের নানা অসঙ্গতি কিংবা বিশ্ব জুড়ে ঘটে চলা বিভিন্ন মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে তিনি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হন।
সম্প্রতি সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে অত্যন্ত আবেগঘন ও স্পষ্ট ভাষায় একটি পোস্ট দিয়েছেন এ অভিনেত্রী, যা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে শ্রীলেখা লিখেছেন যে, পৃথিবী আজ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আকাশছোঁয়া উন্নতি করলেও আজও ধর্মের নামে মানুষের স্বাধীনতা এবং বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সৌদি আরবে একটি মসজিদে চুম্বনের অপরাধে দুই ব্যক্তির শিরশ্ছেদের যে খবর সামনে এসেছে, তাকে তিনি অত্যন্ত ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছেন।
খোলামেলা ভাষায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম নেই। আমি বিশ্বাস করি, সব ধর্মের মূল কথাই ভালোবাসা। ধর্মের নামে ভয়, ঘৃণা আর হিংসা ছড়ানো মানুষের তৈরি, ঈশ্বরের নয়।’
ইসলাম, হিন্দু বা খ্রিস্টধর্ম যেকোনো ধর্মের নামে মৌলবাদ ও ধর্মীয় উন্মাদনা তার কাছে সমানভাবে ঘৃণ্য বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, আজও কেন ভালোবাসার অপরাধে দুটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে? কিংবা নিজের মতপ্রকাশের জন্যই বা তরুণ-তরুণীদের কেন প্রাণ হারাতে হবে? শুধু সৌদি আরব বা ইরান নয়, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মানুষের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হলে আমাদের প্রতিবাদ কি শুধু সামাজিক মাধ্যমের কয়েকটি পোস্টেই সীমাবদ্ধ থাকবে? এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
নিজেকে একজন ‘পুরনো আত্মা’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্রীলেখা লিখেছেন যে, চারপাশের এ নিষ্ঠুরতা তাকে ভীষণভাবে প্রভাবিত ও যন্ত্রণা দেয়। অন্য অনেকের মতো সহজে সবকিছু ভুলে তিনি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেন না।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে শ্রীলেখা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাদের জীবন এবং ভালোবাসা অনেক বেশি মূল্যবান। মানুষের জীবনের চেয়ে বড় কোনো ধর্ম হতে পারে না বলেই বিশ্বাস করেন এ অভিনেত্রী।




