ভারতীয় ক্রুবাহী তৃতীয় ট্যাংকারে হামলার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: রয়টার্স
ওমান উপকূলে আজ বৃহস্পতিবার জালভির নামের একটি ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এটি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সপ্তাহে ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত ট্যাংকারে এটি ছিল তৃতীয় হামলা এবং নিরাপদ আছেন জাহাজটির ২০ জন নাবিক।
একদিন আগে ওমান উপকূলে সেট্টেবেলো ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা বারবার অমান্য করার পর একটি মার্কিন বিমান জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।’
তারা আরও জানায়, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকারটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কারণ এটি ‘ওমান উপসাগর হয়ে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।’
ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নাবিকরা নিরাপদ আছেন এবং ওমানের রয়্যাল নৌবাহিনীর সমন্বয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই হামলাগুলো অবশ্যই বন্ধ হতে হবে এবং এর অবসান ঘটাতে হবে।’
সোমবার মারিভেক্স তেলবাহী ট্যাংকারকে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে অচল করে দেওয়ার পর এটি ছিল এই সপ্তাহে ভারতীয় নাবিকদের পরিচালিত তৃতীয় ট্যাংকার, যেটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরান ব্যাপকভাবে সীমিত করার পর ১৩ এপ্রিল থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই সেন্টকম বলেছে, অবরোধ কার্যকর করার সময় জাহাজগুলোর নাবিকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করেননি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেন্টকম জানিয়েছে, এই অবরোধের ফলে নির্দেশনা না মানা ৯টি জাহাজ অচল করা হয়েছে, আরও ১৩৫টি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মানবিক সহায়তা বহনকারী ৪২টি জাহাজকে।
লক্ষ্যবস্তু করা জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি জাহাজ এবং ইরানি পণ্যবাহী অন্যান্য জাহাজ, যার মধ্যে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারও রয়েছে। এগুলো সাধারণত পুরনো জাহাজ, যেগুলোর পশ্চিমা বীমা নেই। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনে এসব জাহাজ ব্যবহার করা হয় এবং প্রকৃত মালিকানা, পণ্য ও চলাচল গোপন রাখতে বিভিন্ন দেশের পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করে।
তিনটি ট্যাংকারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল শুধু মারিভেক্সই।






