ইরান সমর্থিত হুতির হামলায় ইয়েমেনের ১৪ সেনা নিহত

হুতিরা সাময়িকভাবে সরকারপন্থী বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে- রয়টার্স
ইয়েমেনের বন্দরনগরী হোদাইদার দক্ষিণে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত অন্তত ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন। রবিবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন সরকারের পক্ষে থাকা দুই সামরিক কর্মকর্তা।
সংঘর্ষস্থল হাইস জেলার জাবাল দুবাস এলাকায় অবস্থানরত সরকারপন্থী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ‘তীব্র লড়াইয়ে’ ১৪ সেনা নিহত এবং আরও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শুক্রবার গভীর রাতে শুরু হওয়া সংঘর্ষে হুতিরা সাময়িকভাবে সরকারপন্থী বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করেছিল। তবে শনিবার ভোরে পাল্টা অভিযানে সেগুলো পুনর্দখল করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বললেন, ‘এটি কয়েক বছরের মধ্যে হুতিদের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।’
তার ভাষ্য, প্রথমে স্নাইপার হামলা চালিয়ে হুতিরা অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটায়। পরে তারা ড্রোন ও মর্টার হামলা চালায়।
এর আগে আরেক সামরিক কর্মকর্তা জানান, হাইস জেলায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ১৪ সেনা নিহত হয়েছেন এবং সরকারপন্থী বাহিনী হুতিদের হামলা প্রতিহত করেছে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে হুতিদের পক্ষেও হতাহত হয়েছে। তবে কতজন নিহত হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।
২০১৫ সাল থেকে হুতিরা ইয়েমেনের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংঘাতে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে লোহিত সাগর উপকূলের হোদাইদাও রয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই স্থবির ছিল।
তবে শুক্রবার হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়। সৌদি আরব ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধান সমর্থক।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ইরানের তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ হুতিরা অভিযোগ করেছে, একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব।





