যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা ছাড়লেন ইরানি প্রতিনিধিরা, সমঝোতার খসড়া ঘিরে তৎপরতা

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা থেকে সরে গেছেন ইরানের প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার একটি খসড়া প্রস্তাব বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রচার করা হচ্ছে। এ নিয়ে পরবর্তী বৈঠকও হতে পারে। সোমবার আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা থেকে রবিবার চলে যান ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনায় কোনো জটিলতার কারণে তারা চলে যাননি। খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, আলোচনার ভিত্তি হলো সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি করা সাত ধাপের একটি পরিকল্পনা। এর লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। এখন তেহরান বলছে, কোনো সমঝোতা হলে আরও কম সময়ের মধ্যে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানে কাতারের মধ্যস্থতা সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন।
বাঘাই বললেন, ‘আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো এবং দেশটির বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা শুরু করা সম্ভব নয়। একইভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়।’
কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরাকে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালি সাত দিনের পরিবর্তে দুই দিনের মধ্যেই খুলে দেওয়া সম্ভব। প্রাথমিক প্রস্তাবে সাত দিনের সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল।
ইরানের প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মঙ্গলবার সংঘাত আবারও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার সর্বশেষ এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চাইলে বাঘাই বলেন, নির্বাচন থেকে ‘নতুন কোনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে’ বলে আশা করে না ইরান।
ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।



