পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠন
- আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

ছবি: আগামীর সময়
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধের মধ্যেই নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। আজ রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর আজই মজুরি বোর্ড ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত থাকা সত্ত্বেও একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসেছি, মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বসেছি। তারপর দেখা গেল আজকে সকাল থেকে এখন পর্যন্ত সমস্ত শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হলো। আমি আশা করি, আমার এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে আমরা শ্রমিক ভাইয়েরা তাদের যে দাবি ছিল, তা আজকেই ঘোষণা দিচ্ছি।’
শ্রম আইন অনুসারে গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ৬ সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের পর আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেছেন, ‘এটা এখন থেকে কার্যকর হবে। তারা দ্রুততম সময়ে মজুরি কাঠামো গঠন করবেন। শ্রমিকদের দাবি ছিল, মজুরি বোর্ড গঠন। এখন তা গঠন করা হলো। আশা করছি, এখন তারা রাস্তা ছেড়ে দেবে।’
শ্রমিকদের সড়কে নামানোর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে দাবি করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এটাকে সামনে রেখে একটা গ্রুপ তাদের ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিষয় এসেছে। জনগণ সজাগ থাকলে সেই চেষ্টা সফল হবে না।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তৈরি পোশাকশিল্পে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। অন্যদিকে, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩৮ ধারার উপধারা ৩(ক) ও ৩(খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় নির্ধারিত কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ ফরম ও প্রকাশনা অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি শেখ আসফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে গঠিত ৬ সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্যরা হলেন— নিরপেক্ষ সদস্য হয়েছেন ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ (অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। আর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আসিফ আইয়ুব (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন চেম্বার)।
এছাড়া শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন আনোয়ার হোসেন (সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল)। মজুরি বোর্ডে গার্মেন্টস শিল্প বা মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন শামসুদ্দিন (পরিচালক, বিজিএমইএ)। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাবুল আক্তারকে (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন)।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজও রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালীন শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।



