‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে’, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানি মুখপাত্র

২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানে প্রদর্শিত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে জড়ো হয়েছেন লোকজন। ফাইল ছবি / রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেছেন, আলোচনায় ইরানের প্রধান বিবেচ্য হবে যুক্তরাষ্ট্রের কথার চেয়ে তাদের বাস্তব পদক্ষেপ।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেছেন, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র কেবল কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতেই ব্যর্থ হয়নি, বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্তও করেছে। তিনি বলেন, ‘বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। ইরানের দাবিগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও যৌক্তিক।’
বাঘাই আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বৈধ দাবি পুরোপুরি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না। একইভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া বা সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।
এদিকে, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি সম্প্রতি কাতার সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাঘাই। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলেও জানান তিনি। তবে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে একতরফাভাবে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানকে ‘যেকোনো সময় বন্ধ করে দিতে পারে’। কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
আইওয়ায় আরেক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেন, প্রাণহানি এড়ানোর চেষ্টা করছেন, তবে একপর্যায়ে ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করতে হবে। ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলারও সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার মূল কারণ ইসরায়েল। শীতকাল এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি পণ্য প্রবেশে বাধা পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র চাপের মুখে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন বাঘাই।
সূত্র : আলজাজিরা




