বিশ্ববাণিজ্যের গলায় ফাঁস, এবার টার্গেট বাব আল-মান্দেব
সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে মোখা বন্দর দখল হুতিদের

বৃহস্পতিবার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর মোখায় দখল করে হুতিরা ।
ইয়েমেনের কৌশলগত লোহিত সাগরীয় বন্দরনগরী মোখা দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের পর মোখায় দখল করে হুতিরা । সেখান থেকে আরও দক্ষিণে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে ইয়েমেনি সামরিক ।
মোখা ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক ঘাঁটি। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সরকারের অনুগত বিভিন্ন বাহিনী, বিশেষ করে জায়ান্টস ব্রিগেড ও নেশনস শিল্ড ফোর্সেস, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সমর্থন নিয়ে হুতিদের মোকাবিলা করে আসছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোখা ও পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে এসব বাহিনীর নতুন করে শক্তি বৃদ্ধির খবরও পাওয়া যায়।
২০১৭ সালের অপারেশন গোল্ডেন অ্যারোর সময় হুতিদের কাছ থেকে মোখা পুনর্দখল করে সরকারপন্থী বাহিনী। এরপর কয়েক বছর ধরে শহরটি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে পরিণত হয়। এবার সেই মোখাই হুতিদের হাতে চলে যাওয়ার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
গত আগস্টের শুরু থেকেই মোখায় হুতিদের হামলা তীব্র হয়। কয়েক দিনের মধ্যে শহরটিতে ২৫টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ইউরো নিউজ। যার ফলে বন্দরের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
এবার লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব
মোখা দখলের মধ্যেই হুতিদের সামরিক অগ্রযাত্রা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য—বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে। এই সরু জলপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সমুদ্রপথের বাণিজ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা মোখার পাশাপাশি দক্ষিণ লোহিত সাগরের জুকার দ্বীপ দখল করেছে বলে একটি ইয়েমেনি সামরিক সূত্র জানিয়েছে। তাদের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্য হিসেবে ধুবাব উপকূলীয় এলাকা ও পেরিম দ্বীপের নামও উঠে এসেছে। পেরিম দ্বীপটি বাব আল-মান্দেবকে দুটি নৌপথে ভাগ করে।
বাব আল-মান্দেবের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা সেখানে কার্যকর সামরিক চাপ তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালির ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং দৈনিক পেট্রোলিয়াম ও অপরিশোধিত তেল পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ চলাচল করে।
সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা সংকট
মোখা পতনের খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ দ্রুত বাড়ছে। হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সময়ে হুতিরাও সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ফলে মোখা এখন শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়; এটি পরিণত হচ্ছে লোহিত সাগর, সৌদি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি সংঘাতকেন্দ্রে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে যদি বাব আল-মান্দেবেও বড় ধরনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ বা নৌ-অবরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। হুতিদের সাম্প্রতিক সময়ের অগ্রযাত্রায় তেলের দামও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে ।



