নির্বাচনে হারলে ভোট চুরির অভিযোগ করতে প্রস্তুত নেতানিয়াহুর দল

জেরুজালেমের একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু— রয়টার্স
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি মঙ্গলবার সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই আরব অধ্যুষিত শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোর ফল চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সোমবার হিব্রু ভাষার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, নেতানিয়াহু জয়ী না হলে ভোট ‘চুরি’ হয়েছে বলে দাবি তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে দলটি।
চ্যানেল ১২ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সম্প্রদায়ের ভোটকেন্দ্রগুলোতে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ধরতে এরই মধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ ও আপত্তি তৈরির কাজ শুরু করেছে লিকুদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ নিকাব বা বোরকা পরে ভোট দিতে আসা নারীদের ভোট চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি কিছু কেন্দ্রে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে—এমন অভিযোগ তোলারও প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহুর দল। এ উদ্দেশে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্র ‘পর্যবেক্ষণ’ করতে কয়েক হাজার দলীয় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চ্যানেলটি জানিয়েছে, এসব বিষয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় আগেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তা সত্ত্বেও জালিয়াতির অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে লিকুদ।
দৈনিক হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে পরাজয়ের পরিস্থিতি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনে ‘চুরি’ হয়েছে বলে দাবি জানানোর সম্ভাবনাও আলোচনা করা হয়েছে।
লিকুদের এক সূত্র হারেৎজকে বলেছেন, ‘ধরা যাক, একজন নারী বোরকা পরে ভোট দিতে এলেন। কয়েক মিনিট পর আরেকজন নারী বোরকা পরে এলেন—হয়তো তিনিই একই নারী? আমাদের বিষয়টি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।’
হারেৎজ উল্লেখ করেছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ার কোনো কর্তৃত্ব দলীয় কর্মীদের নেই। কোনো নারী তাদের কাছে পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কী করবেন, সে বিষয়েও লিকুদের ওই সূত্র কিছু জানাননি।
লিকুদের ওই সূত্র বললেন, ‘আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে জালিয়াতি ঠেকাতে আমরা সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত উদ্যোগ নিয়েছি।’
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র হারেৎজকে বলেছেন, ‘পরাজিত হলে কী করা হবে, তা নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে।’
তিনি আরও বললেন, ‘নির্বাচন চুরি ও কারচুপির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হয়েছে—এমন প্রচার চালানোর পক্ষে স্পষ্ট মতামত এসেছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের বিরুদ্ধে যে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন, প্রস্তাবিত প্রচারটি তার মতো হতে পারে বলে জানায় ওই সূত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব আলোচনায় নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না। তবে তিনি পরাজিত হলে এবং ফল চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন লিকুদের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিকল্পটি বিবেচনা করছেন নেতানিয়াহুও।
লিকুদ ও কট্টর ডানপন্থী দল রিলিজিয়াস জায়োনিজম আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ২ হাজার দলীয় কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করায় উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। এসব কর্মীর ভোট তদারকির কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব নেই বলে জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব না থাকলে নির্বাচনের দিন এসব কর্মী কী করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটকেন্দ্রে কারা থাকতে পারবেন এবং সেখানে তাদের করণীয় কী—এ বিষয়ে কঠোর আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। পুলিশকে এসব বিধি কার্যকর করতে হয়।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ নেই এবং বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট। অন্যদিকে আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে বলে কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তা ব্যাখ্যা করেনি লিকুদ ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি।
ইসরায়েলের উদারপন্থী নজরদারি সংগঠন মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট জানিয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তারা একটি হটলাইন চালু করবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল





