হরমুজে ৩ তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন, মার্কিন ‘গুপ্তচর’ ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন জ্বলছে। ফাইল ছবি / সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে নৌমাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ও আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘গুপ্তচর ও প্রতারণামূলক’ ড্রোন আটক করার দাবিও করেছে বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তিনটি তেল ট্যাংকার। এ সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে জাহাজগুলোতে বিস্ফোরণ ও আগুন ধরে যায়।
আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকারগুলো তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনীর সতর্কতাও উপেক্ষা করেছিল তারা। পরে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
ট্যাংকারগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী বা হতাহতের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন আটকের দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সদস্যরা একটি মার্কিন ‘গুপ্তচর ও প্রতারণামূলক’ এমকিউএম-১৭০ ড্রোন নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছেন।
আইআরজিসির দাবি, পারস্য উপসাগরের উপকূলীয় এলাকা ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করতে ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল।
বাহিনীটি আরও দাবি করেছে, ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্তের একটি দেশের উপকূল থেকে এটি উড্ডয়ন করেছিল। তবে দেশটির নাম জানানো হয়নি।
তেল ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও মার্কিন ড্রোন আটকের এসব দাবির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়া হবে না।
ইরানের ফারস বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শর্ত পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি কখনোই খুলে দেওয়া হবে না।’
মোহেবি আরও দাবি করেছেন, ‘শত্রুরা’ ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন লক্ষ্য’ তথাকথিত ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সূত্র- আলজাজিরা




